কাশ্মীরে অবৈধ তৎপরতা থেকে বিরত থাকতে ভারতের প্রতি ওআইসির আহ্বান

নাইজারে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) সম্মেলনের এজেন্ডায় কাশ্মীর ইস্যু থাকবে কিনা তা নিয়ে সাংঘর্ষিক প্রতিবেদনের মধ্যে ওআইসির পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা সর্বসম্মতভাবে কাশ্মীর ইস্যুর প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেছেন। এটি পাকিস্তানের একটি কূটনৈতিক বিজয় হিসেবে অভিহিত হচ্ছে।

ঐতিহাসিক এক উদ্যোগে ওআইসি সর্বসম্মতভাবে পাকিস্তানের উত্থাপিত প্রস্তাবটি গ্রহণ করে। এতে জাতিসঙ্ঘ মহাসচিবকে বাড়তে থাকা ইসলামফোবিয়া প্রতিরোধ ও আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি বাড়ানোর জন্য বৈশ্বিক সংলাপ শুরুর আহ্বান জানানো হয়।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কোরেশি নাইজারে ওই প্রস্তাব উত্থাপন করেন। তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতের আন্তর্জাতিক সহযোগিতাবিষয়ক মন্ত্রী রিম আল হাশেমির সাথে বৈঠকে আমিরাতে পাকিস্তানি নাগরিকদের ভিসা নিষিদ্ধ করার বিষয়টিও উত্থাপন করেন।

নাইজার থেকে প্রাপ্ত খবরে জানা যায়, ওআইসির পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা পাকিস্তানের প্রস্তাবটি সর্বসম্মতভাবে গ্রহণ করেন। ওআইসি সুস্পষ্টভাবে ৫ আগস্ট ভারত অধিকৃত কাশ্মীরের মর্যাদা একতরফাভাবে পরিবর্তনকে প্রত্যাখ্যান করে। তারা কাশ্মীরে ভারতের অবৈধ তৎপরতা অবসানের আহ্বানও জানায়।

এতে অকাশ্মীরীদেরকে ডোমিসাইল সার্টিফিকেট প্রদান করার নিয়মও বাতিল করার দাবি জানানো হয়।

৫৭ সদস্যবিশিষ্ট ওআইসি কাশ্মীরের জনসংখ্যা পরিবর্তন করার যেকোনো পদক্ষেপ গ্রহণ থেকে বিরত থাকার জন্য ভারতের প্রতি আহ্বান জানায়।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ভারত-অধিকৃত কাশ্মীরে মানবাধিকার লঙ্ঘনেরও নিন্দা করেন। কাশ্মীরী জনগণের ওপর রাষ্ট্রীয় মদতপুষ্ট সন্ত্রাসের নিন্দাও তারা করেন।

সর্বসম্মতভাবে গ্রহণ করা প্রস্তাবে কাশ্মীরীদের ওপর ভারতীয় বাহিনীর পেলেট গান ব্যবহারের নিন্দা জানানো হয় আবারো।

সম্মেলনে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নীতিমালা অনুসরণের জন্যও ভারতের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। সূ্ত্র: ডন

হোয়াইট হাউসে ফিলিস্তিনি কর্মকর্তা নিয়োগ, নতুন ইতিহাস গড়ছেন বাইডেন!

আমেরিকার প্রশাসনে একের পর এক ইতিহাসের জন্ম দিয়ে চলেছেন নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনে। এবার আরও একটি ইতিহাসের সৃষ্টি করতে যাচ্ছেন তিনি। প্রথমবারের মতো কোনও ফিলিস্তিন বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক হোয়াইট হাউসে কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পাচ্ছেন।

তার নাম রিমা দোদি। তিনি নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের দীর্ঘদিনের সহকারী। তাকে এবার হোয়াইট হাউসের আইন প্রণয়নবিষয়ক উপপরিচালক হিসেবে নিয়োগ দিচ্ছেন বাইডেন। খবর মিডলইস্ট মনিটর, হারেৎস ও ওয়াফা বার্তা সংস্থার। ইসরায়েল অধিকৃত ফিলিস্তিনের হেবরন শহরের দুরা এলাকায় জন্ম রিমা দোদির।

রিমাকে নিয়োগ দেওয়ার ব্যাপারে জো বাইডেন বলেন, মার্কিন জনগণ আমাদের প্রশাসনের কাজ শুরুর অপেক্ষায় আছে। ফিলিস্তিন বংশোদ্ভূত এ নারীকে নিয়োগের মাধ্যমে সব নাগরিকের প্রতি আমাদের সমান অধিকার প্রতিষ্ঠার এজেন্ডা বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

রিমা দোদি ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্পন্ন করার পর ইলিয়ন বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর পড়াশোনা শেষ করেন। বিগত ১৪ বছর ধরে তিনি ইলিয়নের সিনেটর ডিক দুরবিনের সহকারী হিসেবে কাজ করে আসছেন।

পবিত্র আল-কোরআনের অনুবাদ করতে গিয়ে মুসলমান হলেন ‘মার্কিন যাজক’

পবিত্র ধর্মগ্রন্থ আল কুরআন অ’নুবাদ করতে গিয়ে মুসলিম হয়েছেন যু’ক্তরাষ্ট্রের ধর্ম যা’জক স্যামুয়েল আর্ল শ্রপ’শায়ার। তিনি মঙ্গলবার আধা-সরকারি সৌ’দি নিউজ ওয়েবসাইট সবক’কে দেয়া এক সা’ক্ষাৎকারে একথা জানান বলে জা’নিয়েছে ল’ন্ডন ভিত্তিক প্যান-আরব গণ’মাধ্যম দ্য নিউ আরব।

শ্রপশায়ার ২০১১ সালে কুরআন করতে স’ম্পাদক হিসেবে কাজ করার জন্য প্রথম সৌ’দি আরবের জেদ্দা সফর করেন। তিনি এসময় যুক্ত’রাষ্ট্রের গণ’মাধ্যমে উপস্থাপিত মুস’লিমদের নে’তিবাচক চ’রিত্র সম্পর্কে খুবই স’চেতন ছিলেন।

এই ৭০ বয়সী ব্যক্তি বলেন, আমি দ্রু’তই বুঝতে পারলাম যে যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যমে উ’পস্থাপিত মুস’লিম সঙ্গে বাস্তবের মু’সলিমদের মধ্যে কোনও মি:ল নেই।

তিনি বলেন, এখানে আমি এমন মানুষ দেখলাম, যারা অন্য’দের সঙ্গে সালাম বি’নিময় করেন। মুস’লিমদের পাশাপাশি অ’মুসলিমদের প্রতিও উ’দারতা দেখায়।

শ্রপশায়ার জানান, কু:রআন নিয়ে কাজ করার পাশাপাশি তিনি জে’দ্দার মুস’লিমদের কাছ থেকে যে আ’তিথেয়তা পেয়েছেন, সেটিও তাকে ইস’লাম গ্র’হণে অ’নুপ্রাণিত ক’রেছে।
তিনি বলেন, সৌদি মুস’লিমরা এক আ’ল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন এবং তারা চ’মৎকার নৈ’তিকতার অ’ধিকারী।

আরো পড়ুন-জার্মান শহরে মাইকে ‘আজান নিষিদ্ধের’ মামলায় জয়ী হলেন মুসলিমরা!

জার্মানির একটি শহরে মাইকে আজান দেয়া নিষিদ্ধ করার দাবিতে স্থানীয়দের করা মা’মলায় জয় পেয়েছেন মুসলিমরা। টানা পাঁচ বছরের আইনি লড়াই শেষে বুধবার মা’মলাটি খারিজ করে দিয়েছেন জার্মান আদালত

জার্মানির একটি শহরে মাইকে আজান দেয়া নিষিদ্ধ করার দাবিতে স্থানীয়দের করা মা’মলায় জয় পেয়েছেন মুসলিমরা। টানা পাঁচ বছরের আইনি লড়াই শেষে বুধবার মা’মলাটি খারিজ করে দিয়েছেন জার্মান আদালত।

ফলে, এখন থেকে শহরটিতে মাইকে আজান দিতে আর কোনও বাধা থাকল না। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, ২০১৫ সালে জার্মানির উত্তর রাইন-ওয়েস্টফালিয়া অঙ্গরাজ্যের ওর-এরকেনশিক শহরের বাসিন্দারা আজানের সময় মাইক ব্যবহারের বি’রুদ্ধে অ’ভিযোগ দায়ের করেছিলেন।

মসজিদ থেকে ৯০০ মিটার দূরে বসবাসকারী একটি পরিবারের অভিযোগ ছিল, আজানের শব্দে তাদের ধর্মীয় স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হচ্ছে। কিন্তু পরিবারটির এ দাবি খারিজ করে দিয়েছেন জার্মান আদালত।

রায় ঘোষণায় বিচারক বলেছেন, অন্যরাও ধর্মীয় চর্চা করবে এটা প্রতিটি সমাজকে অবশ্যই মানতে হবে। যতক্ষণ কাউকে ধর্মচর্চায় জোর করা হচ্ছে না, ততক্ষণ অভিযোগ জানানোর কোনও সুযোগ নেই।