ব্রহ্মপুত্রে বাঁধ দিচ্ছে চীন, ভারতে পানি সংকটের আশঙ্কা

স্থানীয়ভাবে ইয়ারলাং জ্যাংবো নামে পরিচিত এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ নদ ব্রহ্মপুত্রে বাঁধ নির্মাণ করে বিশাল জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের উদ্যোগ নিয়েছে চীন। এতে পানি সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে উত্তর-পূর্ব ভারতে।

দেশটির রাষ্ট্রীয় দৈনিক গ্লোবাল টাইমস এ খবর জানিয়ে বলছে, চীনের ১৪তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় আগামী বছর থেকে তিব্বতে ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ শুরু হতে পারে।

বিজ্ঞাপন

স্বাভাবিকভাবে এতে উদ্বিগ্ন ভারত। কেননা ব্রহ্মপুত্র নদের অববাহিকার বেশিরভাগ ভারতের মধ্যে দিয়ে বয়ে চলেছে। ফলে বাঁধ দেয়া হলে ব্রহ্মপুত্রনির্ভর মানুষজন নানা সমস্যায় পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

তিব্বতের পশ্চিমাঞ্চলে হিমালয় পর্বতমালার কৈলাস শৃঙ্গের কাছে জিমা ইয়ংজং হিমবাহে ব্রহ্মপুত্রের উৎপত্তি। এর পর ভারতের অরুণাচল ও আসাম হয়ে ব্রহ্মপুত্র সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।

বিজ্ঞাপন

ভারতে প্রবেশের মুখে অরুণাচল সীমান্তের কাছে তিব্বতের মেডগ কাউন্টিতে ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর এই বাঁধ নির্মাণ করা হবে বলে চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত দৈনিক গ্লোবাল টাইমসের অনলাইন প্রতিবেদনে জানানো হয়।

গতকাল রোববার চীনের পাওয়ার কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের চেয়ারম্যান ইয়ান ঝিইয়ং জানান, ইতিহাসে এর সমকক্ষ কোনো প্রকল্প নেই, এটি চীনের জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ইতিহাসে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।

তিনি আরও বলেন, ‘দেশের একাধিক অংশের পানি সরবাহের উৎস ছাড়াও এ বাঁধ বিদ্যুৎ সরবরাহে ব্যাপক সাহায্য করবে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে পানিবণ্টন ব্যবস্থা ও জাতীয় সুরক্ষা বজায় রাখা যাবে।

তিনি জানান, বাঁধটি থেকে বছরে ৬ কোটি কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে, যা বার্ষিক ৩০০ বিলিয়ন কিলোওয়াট কার্বনমুক্ত ও পুনর্ব্যবহারযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে এবং বছরে ৩০০ কোটি ডলার আয় হবে। জাগোনি

স্কুলে বাদ দেওয়া হচ্ছে না ইসলাম শিক্ষা

স্কুলে বাদ দেওয়া হচ্ছে না ইসলাম শিক্ষা
শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা সংশ্লিষ্ট কেউ মাধ্যমিক শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে ইসলাম শিক্ষা বাদ দেওয়া হবে মর্মে কোনো মন্তব্য করেননি বলে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

সোমবার (৩০ নভেম্বর) এ সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
গত ২৯ নভেম্বর দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকায় ‘শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য দেশের মুসলিম জাতিসত্তার জন্য অশনিসংকেত’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদে জমিয়তে তালাবায়ে আরাবিয়ার সম্মেলনে ইসলামী ঐক্য আন্দোলনের আমির ড. ঈশা শাহেদী শিক্ষা মন্ত্রী মহোদয়ের বরাত দিয়ে দাবি করেছেন মাধ্যমিক শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে ইসলাম শিক্ষাকে বাদ দেওয়া হবে।

এ বিষয়টি পুরোপুরি ভিত্তিহীন ও গুজব বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বস্তুতপক্ষে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কেউ কখনই মাধ্যমিক শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে ইসলাম শিক্ষা বাদ দেওয়া হবে, এমন মন্তব্য করেননি। তাই এ ধরনের গুজব ছড়ানো থেকে বিরত থাকার জন্য সকলকে বিশেষভাবে অনুরোধ করা হচ্ছে।

ঢাকায় থাকতে হলে তাদেরই জিয়ার সাইনবোর্ড লাগাতে হবে: গয়েশ্বর

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, আমরা ইতিহাস সৃষ্টি করবো, যাদের হাতে সাইনবোর্ড খোলা হচ্ছে তাদেরই সাইনবোর্ড লাগাতে হবে, এই বাংলাদেশে বাস করতে হলে, ঢাকা শহরে বাস করতে হলে।

সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

গয়েশ্বর বলেন, ইচ্ছা করলেই জিয়াউর রহমানের নাম মোছা যায় না। কারণ জিয়াউর রহমানের নাম ও তার ছবি স্বাধীনতাকামী, গণতন্ত্রে বিশ্বাসী, দেশপ্রেমিক জনগণের হৃদয়ে আঁকা। এই ছবি ছিড়ে ফেলা যায় না, মুছে ফেলা যায় না। কারণ এটা হৃদয়ে লেখা, কালিতে লেখা নয়। সেকারণেই বলছি, এই নাম যত স্পর্শ করবেন ততো হাত ভারী হবে।

তার শাস্তি ভোগ করার জন্য আগামী দিন প্রস্তুত থাকতে হবে। আজকে জিয়াউর রহমানের নাম মোছা হচ্ছে আবার প্রতিদিন টাকা খরচ করে আপনাদের নাম টয়লেট থেকে শুরু করে পাহাড়ের চূড়ায় লেখা হচ্ছে। স্বাধীনতা যুদ্ধের মহানায়ককে যদি মুছে ফেলতে চান, যেদিন রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকবেন না, সেদিন জনগণ শুধু আপনাদের নাম মুছবে না, সাদা চুন দিয়ে একেবারে পরিষ্কার করে ফেলবে।

তিনি আরো বলেন, আপনি আজকে পিতার ভাস্কর্য বানান, তার আপত্তি নাই। কিন্তু ১৫ আগস্ট যারা আপনার পিতার লাশ পড়ে থাকা অবস্থায় লুঙ্গি পড়ে দেশ ছেড়ে বিদেশ আশ্রয় নিল, তার সংখ্যা পাঁচ হাজারের মতো, এইসব বেঈমান কাপুরুষদের ব্যবহার করে আপনি যা খুশি করবেন, সেটা মানানসই কতটুকু আপনি নিজেই বিবেচনা করবেন। যারা গায়েবি জানাজা পর্যন্ত পড়লো না তাদের কি অধিকার আছে এই নেতার নাম উচ্চারণ করার।

তাদেরকে পুরস্কৃত কেন আপনি করেন। শেখ মুজিবকে আমরা অপমান করি না , তার জায়গা ইতিহাসে যেখানে আছে সেখানেই থাকবে। তার যতটুকু অবদান আছে সেটা আমরা স্বীকার করবো, এটাই নিয়ম। কিন্তু আপনার বাবার সাথে যারা বেঈমানি করেছে তাদের পুরস্কৃত করবেন না।

গয়েশ্বর বলেন, ইতিহাস বলে একটি ডাকের দরকার ছিল, সেটি দিয়েছিল জিয়াউর রহমান। তার ডাকে সাড়া দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে প্রত্যক্ষ পরোক্ষভাবে অংশগ্রহণকারী সবাইকে আমাদের স্মরণ করতে হবে। জিয়াউর রহমান সর্বকালের শ্রেষ্ঠ মুক্তিযোদ্ধা।

সে কারণেই তার নাম মোছা ইতিহাসকে বিকৃত করার অপচেষ্টা। এই কাজ করে জনগণের হৃদয়ে যে আঘাত করছেন, এই আঘাতের পাল্টা আঘাত পাওয়ার জন্য আপনাকে প্রস্তুত থাকতে হবে।

সেই কারণেই বলছি নাম লেখালেখি আর মোছাও বন্ধ করেন। জনগণের ওপর ছোড়া পাথর সরানোর দায়িত্ব আমাদের ওপর বর্তায়, এই কারণে জিয়াউর রহমানের দল করি। আপনারা সবাই পালালেও সেদিন জিয়াউর রহমান পালায় নাই। এই নাম মোছা যায় না, এই নাম মুছতে গেলে নিজের নাম মুছে যায়।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি’র সভাপতি হাবিব-উন-নবী খান সোহেল এর সভাপতিত্বে বিক্ষোভ সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন বিএনপির যুগ্নমহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল প্রমুখ। যুগান্তর

স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের পক্ষে বাংলাদেশ

স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশ ফিলিস্তিনিদের জনগণের প্রতি সমর্থন দিয়ে আসছে।

এমনকি এ কারণে ইসরায়েল ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর স্বীকৃতি দিতে চাইলেও তা গ্রহণ করেনি বাংলাদেশ।

কিন্তু বিশ্বের বেশ কটি আরব দেশ সাম্প্রতিক সময়ে ইসরাইলের দিকে ঝুঁকছে।

অগাস্ট মাসে ইসরাইলের সাথে শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের ঘোষণা দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত।

এরপর বাহরাইন ইসরায়েলের সাথে সম্পর্ক পুরোপুরি স্বাভাবিক করার ঘোষণা দিয়েছে।

এমনকি সৌদি আরবও ইসরায়েলের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার দিকে এগুচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বিনইয়ামিন নেতানিয়াহু ও সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান গোপনে বৈঠক করেছেন এই খবরে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

নানা ধরনের আর্থিক সহায়তা ও লক্ষ লক্ষ অভিবাসী শ্রমিকদের আয়ের উৎস মধ্যপ্রাচ্যের এসব দেশ, বিশেষ করে সৌদি আরবে। এমন পটভূমিতে মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশগুলোর অবস্থানের বিপরীতে, ফিলিস্তিনিদের পক্ষে বাংলাদেশের এই অবস্থান বাংলাদেশের এই অবস্থান একটি স্পষ্ট বার্তা দেয়।

মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক মুসলিম দেশই যখন ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দিয়েছে, তখন ফিলিস্তিনিদের অধিকার ও দ্বি-রাষ্ট্র তত্ত্বের প্রতি সংহতির কথা আবারো জানালো বাংলাদেশ।

রোববার ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি সংহতি বিষয়ক জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক দিবসে এ সংক্রান্ত একটি বার্তা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়। বার্তাটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বাক্ষরিত।

দীর্ঘদিন ধরে চলমান ইসরাইল-ফিলিস্তিনের সংকট নিরসনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত দুই পক্ষের জন্য আলাদা দুটি দেশ।

বাংলাদেশে স্বাধীনতার পর থেকেই ফিলিস্তিনিদের অধিকার ও দ্বি-রাষ্ট্র তত্ত্বের প্রতি সংহতি জানিয়ে আসছে।

কিন্তু সম্প্রতি অনেকটাই বদলে গেছে প্রেক্ষাপট। মধ্যপ্রাচ্যের তিনটি মুসলিম দেশ ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে।

এমনকি সম্প্রতি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বিনইয়ামিন নেতানিয়াহুর এক গোপন সৌদি আরব সফর এবং যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সাথে বৈঠকও অনেক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

কেউ কেউ মনে করেন, ইসরায়েল ও সৌদি আরবের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের একটি প্রক্রিয়া চলছে, যার মধ্যস্ততা করছে আমেরিকা।

বার্তায় যা আছে : শেখ হাসিনা ও বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মোঃ আব্দুল হামিদ গতকাল এই দিবসটিতে আলাদা বার্তা দিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী তাতে বলেছেন, “পূর্ব জেরুজালেম-আল কুদস আল শারিফকে রাজধানী রেখে দ্বি-রাষ্ট্র তত্ত্বের আঙ্গিকে ১৯৬৭ সালের সীমানাভিত্তিক একটি ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের পক্ষে আমরা আমাদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করছি।”

শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশ নিজে যেহেতু স্বাধীনতার জন্য অনেক সংগ্রাম করেছে তাই স্বাধিকারের প্রশ্নে বিশ্বের যেকোনো জাতির সংগ্রামের প্রতি সমর্থন জানানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সাংবিধানিক দায়বদ্ধতা রয়েছে।

“১৯৭১ সালের ভয়াবহ গণহত্যার কষ্টদায়ক অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে যাওয়ার যে অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের রয়েছে, তা থেকেই উদ্বুদ্ধ হয়ে দশকের পর দশক ধরে ফিলিস্তিনি জনগণ যেভাবে অন্যায় ও নিপীড়নের শিকার হচ্ছে তার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সোচ্চার।”

শেখ হাসিনা তার বার্তায় রোহিঙ্গাদের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেছেন, একই ধরনের চেতনা দ্বারা উদ্বুদ্ধ হয়ে বাংলাদেশ মিয়ানমারে সহিংসতার হাত থেকে পালিয়ে আসা লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে।

তিনি রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে স্থায়ী সমাধানের আহবান জানিয়েছেন।

ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকারের প্রশ্নে তিনি জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ব্যর্থতার কথা তুলে ধরেছেন।

ইসরায়েলি সেনাদের তিনি ‘দখলদার’ বলে উল্লেখ করে বলেছেন, অবিলম্বে ফিলিস্তিনিদের ঘর-বাড়ি ধ্বংস বন্ধ এবং অধ্যুষিত এলাকায় ইসরায়েলিদের বসতি স্থাপন বন্ধ করার আহবান জানান তিনি। বিবিসি বাংলা