ইন্দোনেশিয়ায় আগ্নেয়গিরির ভয়াবহ অগ্ন্যুৎপাত, পালাচ্ছে অধিবাসীরা

ইন্দোনেশিয়ার পূর্ব নুসা টেঙ্গারা প্রদেশে আবারো জেগে উঠেছে ইলে লিউতোক আগ্নেয়গিরি। ভয়াবহ অগ্ন্যুৎপাতে চার কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে কালো ধোঁয়া। অত্র এলাকার ২৮টি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ প্রাণভয়ে পালাচ্ছে। গতকাল রোববার আগ্নেয়গিরি থেকে ছাই, লাভা বেরিয়ে আসতে শুরু করে।

বিষাক্ত গ্যাস এবং লাভার স্রোত সম্পর্কে মানুষকে সতর্ক করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা সংস্থার মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেছেন, রাজধানী জাকার্তা থেকে প্রায় ২৬০০ কিলোমিটার পূর্বে হঠাৎই এই আগ্নেয়গিরি থেকে ছাই, লাভা বেরিয়ে আসতে দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এলাকার বাসিন্দারা।

সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে ১৭ বছর বয়সী মুহাম্মদ লিহান জানিয়েছেন, তিনি এই অগ্ন্যুৎপাতের শুরু থেকেই দেখেছেন। আগুনের তীব্রতায় স্থানীয়রা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। লোকজন নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজ শুরু করে। কিন্তু অন্যত্র চলে যাওয়ার মতো অর্থ অনেকের কাছেই ছিল না।

তবে স্বস্তির বিষয় হচ্ছে, আগুন ছড়িয়ে পড়লেও অগ্ন্যুৎপাতে এখনও পর্যন্ত কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
ঘটনার পরই স্থানীয় বিমানবন্দর বন্ধ করে দেওয়া হয়। এখনও সেখানে অগ্নুৎপাত হচ্ছে। ফলে ওই এলাকায় বিমান চলাচলে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

সরকারের তরফ থেকে বলা হয়েছে, সবাই যেন মাস্ক পরেন এবং চোখ ঢেকে রাখার ব্যবস্থা করেন। তাছাড়া শরীরের খোলা অংশে ছাই পড়লে সেখানেও অসুবিধা হতে পারে। চার কিলোমিটার এলাকা পর্যন্ত বসবাসকারী মানুষকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, আগ্নেয়গিরি থেকে ক্রমাগত লাভা উদ্গিরণের ফলে গরম মেঘ, লাভা স্রোত, লাভা-ধস ও বিষাক্ত গ্যাসে এলাকা ছেয়ে যেতে পারে বলে ধারণা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

ঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সতর্কবার্তা জারি করেছে ইন্দোনেশিয়ার ‘ভলক্যানোলেজি এন্ড জিওলজিক্যাল হ্যাজার্ড মিটিগেশন সেন্টার’।

মাউন্ট ইলি লিউওটোলোকের উচ্চতা পাঁচ হাজার ৪২৩ ফুট। গত কয়েক মাসের মধ্যে এই নিয়ে তৃতীয় আগ্নেয়গিরি থেকে লাভাস্রোত বের হলো ইন্দোনেশিয়ায়। এর আগে জাভা ও সুমাত্রায় দুইটি আগ্নেয়গিরিতে অগ্নুৎপাত হয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার ১৭ হাজার দ্বীপে ৪০০টি আগ্নেয়গিরি আছে। যে কোনও দেশের তুলনায় সংখ্যাটা অনেক বেশি। বলা হয় রিং অব ফায়ারের ওপর রয়েছে এই দ্বীপপুঞ্জ।