জেরুজালেম দখলদার মুক্ত হওয়া না পর্যন্ত ফিলিস্তিনীদের সাহায্য করে যাবে তুরস্ক: এরদোগান!

জেরুজালেম বা বায়তুল মোকাদ্দাস ইসরাইলের কবল থেকে উদ্ধারের আগে পর্যন্ত তুর্কীরা ফিলিস্তিনীদের অব্যাহত সাহায্য দিয়ে যাবে বলে তুর্কী প্রেসিডেন্ট এরদোগান বক্তব্য দিয়েছেন।
এরদোগান আরো বলেছেন ফিলিস্তিনীদের বিরুদ্ধে “দখল,

নিপীড়ন ও গণহত্যার নীতিমালা” সমাপ্ত করার জন্য ফিলিস্তিনের পক্ষে জনমত গঠন করতে সারা বিশ্বে তুরস্ক কাজ করছে ফিলিস্তিনীদের কুটনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে আরো বেশী করে সাহায্য করার জন্য একটি নতুন ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এরদোগান এসব কথা বলেন।

ফিলিস্তিনি জনগণের সাথে আন্তর্জাতিক সংহতি দিবস উপলক্ষে ইস্তাম্বুলে আয়োজিত আল কুদস-লীগের সংসদ সদস্যদের আয়োজিত একটি আলোচনায় এরদোগানের এই বার্তাটি প্রচার করা হয়। এরদোগান তার বার্তায় আরো বলেন

“আল-কুদস-এর সংসদ সদস্যরা তুর্কী সাহায্যে বিশ্বজুড়ে ফিলিস্তিনীদের পক্ষে জনমত গঠন করছে, সভা এবং সম্মেলনের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী ফিলিস্তিনীদের পক্ষে জনমত গঠন করার একমাত্র কণ্ঠস্বর হয়ে উঠেছে এটি।” এরদোগান আরো বলেছেন যে জেরুজালেমকে স্বাধীন করার ইচ্ছা শুধু ফিলিস্তিনের মুসলমানদের অন্তরেই নয় বরংবিশ্বজুড়ে ১.৮ বিলিয়ন মুসলমানের অন্তরেও রয়েছে ।

এরপর তুর্কী স্পিকার মোস্তফা সেন্টোপ ফিলিস্তিন ইস্যুতে তুর্কী নীতি বা অবস্থান আরো পরিষ্কার করে বলেন যে জেরুজালেম কেবল ফিলিস্তিনিদেরই নয়, বরং আরব ও ইসলামিক বিশ্বের সব মুসলমানদের কাছে পবিত্র একটি ধর্মীয় স্থান,

আমরা যদি এই ফিলিস্তিন সমস্যার পিছনে তাকায় তাহলে দেখতে পায় যে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর উসমানীয় সাম্রাজ্যের পতনের পর যে অসম একটি বিশ্ব ব্যবস্থা গড়ে ওঠেছে তাদের নিতী-নির্ধারকরা এহেন অপকর্মের জন্য দায়ী। (তুর্কী স্পিকার এখানে রাশিয়া,ব্রিটেন,ও আমেরিকার উথ্থানের দিকে ইংগিত দিয়েছেন)

অপরদিকে তুর্কী পররাষ্ট্র-মন্ত্রী কাভুসোগলোও প্রকাশ্যে তুর্কীদের ফিলিস্তিনী মুসলিমদের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছে।

স্বৈরশাসনের পথে হাঁটছেন নরেন্দ্র মোদি

নভেম্বরের শুরুর দিকে ভারতের বিশিষ্ট সাংবাদিক অর্ণব গোস্বামীকে কারাগারে নিক্ষেপ করা হয়। গোস্বামীর গ্রেফতারকে মুক্ত বক্তৃতার ওপর আক্রমণ হিসাবে অভিহিত করে জামিন মঞ্জুর করার দাবি তোলেন মোদি সরকারের মন্ত্রীরা। আদালত তাকে মুক্ত করে দেয়।

আদালতের রায়টি অবাক করার মতো ছিল না। তবে, হতাশাব্যাঞ্জক ছিল আদালতের হস্তক্ষেপের গতি। গোস্বামী আটকের এক সপ্তাহ অতিবাহিত করেছিলেন। তবুও এমন একটি দেশের শীর্ষস্থানীয় বিচারকরা তার আপিলের মাত্র এক দিনের মধ্যে জামিনের শুনানির সময় নির্ধারণ করতে প্রায় ৬০ হাজার মামলার জামিন শুনানি ডিঙিয়েছেন, যে দেশের কারাগারে বিচারের অপেক্ষায় প্রায় ৩ লাখ ৩০ হাজার লোক ইতিমধ্যেই বন্দি রয়েছেন।

অথচ একই সপ্তাহে উপজাতীয়দের অধিকার আদায়ে কাজ করা ৮৩ বছর বয়সী জেসুইট পুরোহিত ফাদার স্টান স্বামীকে মাওবাদী সন্ত্রাসী হিসাবে আটক করা হলে তিনি পারকিনসন্স রোগে ভুগছেন এবং হাতে কাপ স্থির রাখতে পারেন না বলে নিম্ন আদালতে একটি স্ট্র সরবরাহের আবেদন করেছিলেন। আদালত সেই শুনানিটি ২০ দিনের জন্য স্থগিত করে। পাশাপাশি, গত বছরের আগস্টে জম্মু ও কাশ্মীরের বিদ্রোহ দমনে হাজার হাজার বাসিন্দাকে আটক করা হলেও হাতে গোনা মাত্র কয়েকটি জামিন মঞ্জুর করে আদালত।

আরও সাংঘাতিক বিষয় হ’ল সাংবিধানিক প্রশ্নগুলোতে আদালতের উদাসীনতা। ২০১৭ সালে মোদি বিতর্কিত আইন ‘নির্বাচনী বন্ধন’ তৈরি করে সংসদে গিয়েছিলেন এবং জোর দিয়ে বলেছিলেন যে, বাজেটের বিষয় হিসাবে এটি উচ্চকক্ষের তদন্তের দরকার নেই, যা তখন বিজেপির নিয়ন্ত্রণে ছিল না। সুপ্রিম কোর্ট এ পর্যন্ত বিজেপির এ নয়া উদ্ভাবনের সাংবিধানিক বৈধতা পরীক্ষা করে দেখেনি, যা রাজনৈতিক দলগুলোতে সীমাহীন, বেনামে টাকা ঢালার অনুমতি দিয়েছে। এখনও বিচারপতিদের সামনে কাশ্মীর পরিস্থিতি এবং ১৯৮২ সালের নাগরিকত্ব সংশোধন আইনের বিরুদ্ধে প্রায় ১শ’ ৪০টি আইনী আবেদন অবহেলায় পড়ে রয়েছে, যা ধর্মকে নাগরিকত্বের মানদন্ড হিসাবে সন্নিবেশিত করে ভারতীয় রাষ্ট্রের ধর্মনিরপেক্ষ প্রকৃতিকে ক্ষুন্ন করে।

কেবল আদালতই যে মোদি সরকারের সাথে তাল মেলাচ্ছে, তা নয়। ভারতের অন্যান্য প্রাতিষ্ঠনগুলোও এমন একটি যজ্ঞে শামিল হয়ে পড়েছে, যা দেশটিকে একদলীয় হিন্দুত্ববাদী রাষ্ট্রে পরিণত করার হুমকিতে ফেলেছে। নতুন নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের সময় বিষয়টি আরো স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সেই আন্দোলনে পুলিশের পাথর ছোঁড়া এবং বন্দি মুসলিম যুবকদের ওপর নির্যাতন হলেও দিল্লির হর্তাকর্তারা বিজেপি সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ নথিভুক্ত করতে অস্বীকার করে।

গত বছর ১৯৬৭ সালের অবৈধ কর্মকান্ড প্রতিরোধ আইনে একটি সংশোধন করা হয়, যা রাষ্ট্রকে যেকোনো রাজ্য, ব্যক্তি বা দলকে সন্ত্রাসবাদী হিসাবে চিহ্নিত করার এবং নিষিদ্ধ করার অনুমতি দেয় এবং এটি মোদি সরকারকে কোনও ব্যক্তিকে সন্ত্রাসী হিসাবে মনোনীত করার ক্ষমতা দিয়েছে। এখন তারা সন্দেহভাজনদের জামিনের অধিকার না দিয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধরে রাখতে পারে, তাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করতে পারে এবং যে কোনও সহযোগীকে সন্ত্রাসবাদের অনুচর হিসাবে জড়িত করতে পারে।

মোদির অর্থনৈতিক নীতিমালার প্রশংসা না করায় তিনি ইতোমধ্যে দু’বার ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের প্রধানকে প্রতিস্থাপন করেছেন। মোদি সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী হিসাবে কমান্ডার-ইন-চিফের ভ‚মিকাকে চমকপ্রদ করে তুলেছেন। তাই যখন চীনা বাহিনী ভারতের সীমান্ত অঞ্চলিকে কৌশলগতভাবে দখল করে ছিল, তখন ভারত সরকার খবরটি অস্বীকার করলে দেশটির সেনাবাহিনীও মন্তব্য করতে অস্বীকার করেছিল।

২০১৯ সালে সরকার আরটিআই আইন সংশোধন করে। এটি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের মেয়াদ ও মর্যাদা হ্রাস করে। আশ্চর্যের বিষয়, কমিশন জনগণের কাছে ‘অপর্যাপ্ত তথ্য’ উল্লেখ করে জনগণের তথ্য সরবারাহের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে চলেছে। এমনকি ভারতীয় ভোটের বিশাল লজিস্টিক্স পরিচালনার সাত দশকের একটি দুর্দান্ত রেকর্ডসহ ভারতীয় নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নিরপেক্ষতাও মোদি সরকারের যাচাইয়ের আওতায় এসেছে। ২০১৯ সালের সাধারণ নির্বাচনের সময়, মোদি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করেছিলেন। মোদি এবং অন্যান্য শীর্ষ বিজেপি নেতারা বারবার যখন সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ উস্কে দিচ্ছিলেন, তখন তার বিরোধীরা তীব্র প্রতিবাদ করেছিলেন। অন্যদিকে ইসি তৎক্ষণাত বিরোধীদের ওপর নির্বচনী বিধি লঙ্ঘনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। তিনজন শীর্ষ কমিশনারের মধ্যে একজন আপত্তি করেছিলেন, কিন্তু তা বাতিল হয়ে যায়। পরবর্তীতে তার পরিবার শুল্ক ফাঁকি দেয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত হয়। কর্মকর্তাটি তার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ইসি ছেড়ে দেন।

বিশ্বের বৃহত্তম রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান বিজেপি তার প্রতিদ্ব›দ্বীদের শক্তি, সাংগঠনিক শক্তি এবং আর্থিক সহায়তার তুলনায় বহুগুণ। সে তুলনায় গান্ধী বংশের নেতৃত্বটি ধীরে ধীরে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। ২৩ জন কংগ্রেস নেতার অন্যতম গোলাম নবী আজাদ সম্প্রতি দলীয় সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীর কাছে পরিবর্তন আনার জন্য আবেদন করেছিলেন। তিনি বলেছেন, নেতৃত্বের ব্যর্থতার কারণে তৃণমূল মানুষের সাথে যোগাযোগ ছিন্ন হয়েছে। এর সাংগঠনিক কাঠামো ধসে গেছে। সম্প্রতি মধ্যপ্রদেশে মোদির দল কৌশলে কংগ্রেসের একদল কর্মীকে দলে টেনে নেয়।

বিজেপি সমালোচনাকারী সংবাদমাধ্যমগুলোর কণ্ঠও রোধ করে দিয়েছে। গত দু’মাসে, নতুন নিয়ম অনলাইন মিডিয়ায় বিদেশি বিনিয়োগের স্তর হ্রাস করেছে এবং পুরো খাতটিকে সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীনে রেখেছে। এর মধ্যে গেল ২৪ নভেম্বর কঠোর তদন্তকারী সংবাদমাধ্যম হাফপোস্ট ইন্ডিয়া বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। মোদি সরকারের বিদেশী অনুদান সংক্রান্ত সম্মতি বিধিমালা ইতোমধ্যে কয়েক হাজার এনজিও বন্ধ করার জন্যও ব্যবহৃত হয়েছে। সাম্প্রতিক উদাহরণ অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের ভারত শাখাটি।

মোদি এখন তার সাম্রাজ্যবাদী রীতিতে ভারতের রাজধানী দিল্লি পুনর্র্নির্মাণের জন্য গভীর আগ্রহী। একটি অস্বচ্ছ এবং তাড়াহুড়ো প্রক্রিয়া অনুসরণ করে মোদির নিজের পছন্দসই স্থপতি ও গুজরাটি সহযোদ্ধাকে প্রধান ডিজাইনার হিসাবে

ইন্দোনেশিয়ায় আগ্নেয়গিরির ভয়াবহ অগ্ন্যুৎপাত, পালাচ্ছে অধিবাসীরা

ইন্দোনেশিয়ার পূর্ব নুসা টেঙ্গারা প্রদেশে আবারো জেগে উঠেছে ইলে লিউতোক আগ্নেয়গিরি। ভয়াবহ অগ্ন্যুৎপাতে চার কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে কালো ধোঁয়া। অত্র এলাকার ২৮টি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ প্রাণভয়ে পালাচ্ছে। গতকাল রোববার আগ্নেয়গিরি থেকে ছাই, লাভা বেরিয়ে আসতে শুরু করে।

বিষাক্ত গ্যাস এবং লাভার স্রোত সম্পর্কে মানুষকে সতর্ক করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা সংস্থার মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেছেন, রাজধানী জাকার্তা থেকে প্রায় ২৬০০ কিলোমিটার পূর্বে হঠাৎই এই আগ্নেয়গিরি থেকে ছাই, লাভা বেরিয়ে আসতে দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এলাকার বাসিন্দারা।

সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে ১৭ বছর বয়সী মুহাম্মদ লিহান জানিয়েছেন, তিনি এই অগ্ন্যুৎপাতের শুরু থেকেই দেখেছেন। আগুনের তীব্রতায় স্থানীয়রা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। লোকজন নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজ শুরু করে। কিন্তু অন্যত্র চলে যাওয়ার মতো অর্থ অনেকের কাছেই ছিল না।

তবে স্বস্তির বিষয় হচ্ছে, আগুন ছড়িয়ে পড়লেও অগ্ন্যুৎপাতে এখনও পর্যন্ত কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
ঘটনার পরই স্থানীয় বিমানবন্দর বন্ধ করে দেওয়া হয়। এখনও সেখানে অগ্নুৎপাত হচ্ছে। ফলে ওই এলাকায় বিমান চলাচলে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

সরকারের তরফ থেকে বলা হয়েছে, সবাই যেন মাস্ক পরেন এবং চোখ ঢেকে রাখার ব্যবস্থা করেন। তাছাড়া শরীরের খোলা অংশে ছাই পড়লে সেখানেও অসুবিধা হতে পারে। চার কিলোমিটার এলাকা পর্যন্ত বসবাসকারী মানুষকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, আগ্নেয়গিরি থেকে ক্রমাগত লাভা উদ্গিরণের ফলে গরম মেঘ, লাভা স্রোত, লাভা-ধস ও বিষাক্ত গ্যাসে এলাকা ছেয়ে যেতে পারে বলে ধারণা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

ঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সতর্কবার্তা জারি করেছে ইন্দোনেশিয়ার ‘ভলক্যানোলেজি এন্ড জিওলজিক্যাল হ্যাজার্ড মিটিগেশন সেন্টার’।

মাউন্ট ইলি লিউওটোলোকের উচ্চতা পাঁচ হাজার ৪২৩ ফুট। গত কয়েক মাসের মধ্যে এই নিয়ে তৃতীয় আগ্নেয়গিরি থেকে লাভাস্রোত বের হলো ইন্দোনেশিয়ায়। এর আগে জাভা ও সুমাত্রায় দুইটি আগ্নেয়গিরিতে অগ্নুৎপাত হয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার ১৭ হাজার দ্বীপে ৪০০টি আগ্নেয়গিরি আছে। যে কোনও দেশের তুলনায় সংখ্যাটা অনেক বেশি। বলা হয় রিং অব ফায়ারের ওপর রয়েছে এই দ্বীপপুঞ্জ।