৭৪ বছর বয়সে কোরআন মুখস্থ করলেন বৃদ্ধা!

১৬ বছর আগে জর্দানের ইরবিদ প্রদেশের উমরওয়া কোরআন কেন্দ্রে প্রাতিষ্ঠানিক পাঠ্যক্রম অনুযায়ী তিনি শিখতে শুরু করেছিলেন। কোরআন পড়তে শেখার পর অল্প অল্প করে মুখস্থ করতে শুরু করেন।

তার সামান্য সামান্য ‍প্রচেষ্টা একসময় বিশাল ফলাফল বয়ে আনে। তিনি সমগ্র কোরআনুল কারিম মুখস্থ করে নেন।

আশ্চর্য ও অনুপ্রেরণা-জাগানিয়‍া এ বৃদ্ধার নাম নুরা আল-ওয়ারদাহ। তিনি জর্দানের অদিবাসী।

নিরক্ষর হওয়া সত্ত্বেও ৭৪ বছর বয়সে পবিত্র কোরআন হেফজ করতে সক্ষম হয়েছেন এবং নিজেকে অন্যদের জন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে তুলে ধরেছেন।

নুরার কোরআন হিফজের শিক্ষক নুমা ফুয়াজ বলেন, তিনি অশিক্ষিত হওয়া সত্ত্বেও কোরআন হিফজ করার প্রতি এতো বেশি আগ্রহ ও উদ্দীপনা দেখিয়েছিলেন যে আমি তাকে কোরআন মুখস্থ করার ক্ষেত্রে সাহায্য করার জন্য উত্সাহিত হয়েছিলাম।

নিয়মতান্ত্রিক অধ্যাবসায় ও প্রচেষ্টার মাধ্যমে নুরা আল-ওয়ারদাহ কোরআনের হেফজ সম্পন্ন করেছেন। ১৬ বছরের দীর্ঘ এ সময়ে তিনি নিজের লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হননি। ক্রমাগত অনুশীলন ও সাধনায় তিনি লক্ষ্য ও স্বপ্ন পূরণে সক্ষম হয়েছেন।

বস্তুত কোরআনের হিফজ বা মুখস্থ করার বিষয়টি আল্লাহ সহজ করেছেন। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআয়ালা ইরশাদ করেন, ‘(হে রসুল) আমি তোমার ভাষায় কোরআনকে সহজ করে দিয়েছি যাতে তারা উপদেশ গ্রহণ করে। ’ (সুরা দুখান, আয়াত: ৫৮)

অন্য আয়াতে আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘আর অবশ্যই আমি কুরআনকে সহজ করে দিয়েছি উপদেশ গ্রহণের জন্য। ’ (সুরা কামার, আয়াত: ১৭)
যারা কোরআন হিফজ করতে চায়, আল্লাহ তাদের তাওফিক দান করেন। তাদের জন্য হিফজ করা সহজ করে দেন। দুনিয়া ও আখেরাতে তাদের অনন্য মর্যাদায় ভূষিত করেন।

কুরআন মুখস্থ করলো ৩ বছরের জাহরা

কুরআন আল্লাহর কিতাব। এ কিতাবের সংরক্ষণের দায়িত্ব মহান আল্লাহ নিজেই গ্রহণ করেছেন। আর আল্লাহ তাআলা তা মানুষের হৃদয়ে সংরক্ষণ করেছেন। যা ইচ্ছা করলেও কেউ হৃদয় থেকে মুছে দিতে পারবে না। যার প্রমাণ আজারবাইজানের ৩ বছরের ফুটফুটে জাহরা। এ বয়সেই সে মুখস্থ করেছে পবিত্র কুরআন।

জাহরা হোসাইন। বয়স মাত্র ৩ বছর। এ বয়সে কুরআন মুখস্থ করে সারা বিশ্বকে অবাক করে দিয়েছে সে। আর তাতেই সে দেশটির সবচেয়ে কনিষ্ঠ হাফেজ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে বসবাসকারী কনিষ্ঠ হাফেজ জাহরার মা জানান, ‘জাহরা যখন তার গর্ভে তখন তিনি বেশি বেশি কুরআন তেলাওয়াত করতেন। উচ্চস্বরের কুরআনের তেলাওয়াত মনোযোগ সহকারে শুনতেন।

জাহরার জন্মের পর ছড়া কিংবা কবিতার পরিবর্তে জাহরাকে ঘুম পাড়াতে কুরআনের ছোট ছোট সুরাগুলো তেলাওয়াত করতেন।

জাহরার বয়স যখন ১ বছর তখন থেকেই তার মা লক্ষ্য করেন যে, জাহরা তার তেলাওয়াত করা ছোট ছোট সুরাগুলো তার সাথে তেলাওয়াতের চেষ্টা করছে। মেয়ের এ আগ্রহ দেখে সে কুরআন তেলাওয়াত বাড়িয়ে দেন। আর এভাবেই ৩ বছর বয়সে কোনো শিক্ষক ছাড়াই মায়ের কাছ থেকে শুনে শুনে জাহরা পবিত্র কুরআনের ৩৭টি সুরা মুখস্থ করে ফেলেছে।

জাহরার কুরআন মুখস্থে তার মায়ের অবদানই সবচেয়ে বেশি। কারণ তার জন্মের আগে থেকে মায়ের নিয়মিত কুরআন তেলাওয়াত এবং জন্মের পর ঘুম লাগানোর সময় কুরআনের অবিরাম তেলাওয়াতই জাহরাকে কুরআনের প্রতি আগ্রহী করে তুলেছে।

আল্লাহ তাআলা ৩ বছরের ছোট্ট জাহরা হোসাইনকে কুরআনের পাখি হিসেবে কবুল করুন। জাহরার মতো সব শিশুকেই কুরআনের আবহে বেড়ে ওঠার তাওফিক দান করুন। আমিন।

জেরুজালেম দখলদার মুক্ত হওয়া না পর্যন্ত ফিলিস্তিনীদের সাহায্য করে যাবে তুরস্ক: এরদোগান!

জেরুজালেম বা বায়তুল মোকাদ্দাস ইসরাইলের কবল থেকে উদ্ধারের আগে পর্যন্ত তুর্কীরা ফিলিস্তিনীদের অব্যাহত সাহায্য দিয়ে যাবে বলে তুর্কী প্রেসিডেন্ট এরদোগান বক্তব্য দিয়েছেন।
এরদোগান আরো বলেছেন ফিলিস্তিনীদের বিরুদ্ধে “দখল,

নিপীড়ন ও গণহত্যার নীতিমালা” সমাপ্ত করার জন্য ফিলিস্তিনের পক্ষে জনমত গঠন করতে সারা বিশ্বে তুরস্ক কাজ করছে ফিলিস্তিনীদের কুটনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে আরো বেশী করে সাহায্য করার জন্য একটি নতুন ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এরদোগান এসব কথা বলেন।

ফিলিস্তিনি জনগণের সাথে আন্তর্জাতিক সংহতি দিবস উপলক্ষে ইস্তাম্বুলে আয়োজিত আল কুদস-লীগের সংসদ সদস্যদের আয়োজিত একটি আলোচনায় এরদোগানের এই বার্তাটি প্রচার করা হয়। এরদোগান তার বার্তায় আরো বলেন

“আল-কুদস-এর সংসদ সদস্যরা তুর্কী সাহায্যে বিশ্বজুড়ে ফিলিস্তিনীদের পক্ষে জনমত গঠন করছে, সভা এবং সম্মেলনের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী ফিলিস্তিনীদের পক্ষে জনমত গঠন করার একমাত্র কণ্ঠস্বর হয়ে উঠেছে এটি।” এরদোগান আরো বলেছেন যে জেরুজালেমকে স্বাধীন করার ইচ্ছা শুধু ফিলিস্তিনের মুসলমানদের অন্তরেই নয় বরংবিশ্বজুড়ে ১.৮ বিলিয়ন মুসলমানের অন্তরেও রয়েছে ।

এরপর তুর্কী স্পিকার মোস্তফা সেন্টোপ ফিলিস্তিন ইস্যুতে তুর্কী নীতি বা অবস্থান আরো পরিষ্কার করে বলেন যে জেরুজালেম কেবল ফিলিস্তিনিদেরই নয়, বরং আরব ও ইসলামিক বিশ্বের সব মুসলমানদের কাছে পবিত্র একটি ধর্মীয় স্থান,

আমরা যদি এই ফিলিস্তিন সমস্যার পিছনে তাকায় তাহলে দেখতে পায় যে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর উসমানীয় সাম্রাজ্যের পতনের পর যে অসম একটি বিশ্ব ব্যবস্থা গড়ে ওঠেছে তাদের নিতী-নির্ধারকরা এহেন অপকর্মের জন্য দায়ী। (তুর্কী স্পিকার এখানে রাশিয়া,ব্রিটেন,ও আমেরিকার উথ্থানের দিকে ইংগিত দিয়েছেন)

অপরদিকে তুর্কী পররাষ্ট্র-মন্ত্রী কাভুসোগলোও প্রকাশ্যে তুর্কীদের ফিলিস্তিনী মুসলিমদের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছে।