ময়মনসিংহে ৩ হিন্দু যুবকের ইসলাম গ্রহন

ইসলাম শিক্ষা দেয় যে আল্লাহ দয়ালু, করুনাময়, এক ও অদ্বিতীয়। ইসলাম মানব জাতিকে সঠিক পথ দেখায়। ইসলামী বিশ্বাস অনুসারে, আদম হতে শুরু করে আল্লাহ্ প্রেরিত সকল নবী ইসলামের বাণীই প্রচার করে গেছেন। যুগে যুগে বহু মানুষ ভিন্ন ধর্ম থেকে ইসলাম গ্রহন করেছেন। তারই ধারাবাহিকতায় এবার ময়মনসিংহে ৩ হিন্দু যুবক ইসলাম গ্রহন করেছেন।

বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ময়মনসিংহের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিট্রেট সম্মুখে এফিডেবিটের মাধ্যমে হিন্দু থেকে ইসলাম গ্রহণ করেন তিন যুবক। তারা এখন ঢাকার একটি প্রাইভেট কোম্পানীতে চাকরী করছে। কিছু দিনের মধ্যেই তারা গ্রামে ফিরে ৪০ দিনের চিল্লায় যাবে।

ইসলাম গ্রহন করা ঐ তিন যুবক হলেন, উপজেলা রামগোপালপুর ইউনিয়নের পশ্চিম পাড়া গ্রামের অজয় চন্দ্র বর্মণের ছেলে হৃদয় চন্দ্র বর্মণ (১৯) বর্তমান নাম উসমান, দীলিপ চন্দ্র বর্মণের ছেলে প্রদীপ চন্দ্র বর্মণ (২১) বর্তমান নাম উমর ও শশী বর্মণের ছেলে অমল চন্দ্র বর্মণ (১৯) বর্তমান নাম আবু বক্কর।

এই তিন যুবকের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা বলেন, ইসলাম মুক্তির ও শান্তির ধর্ম। দীর্ঘদিন ধরে ইসলাম ধর্মের বিভিন্ন বই পড়ে, ধর্মের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে স্বইচ্ছায় ও স্বজ্ঞানে আদালতের মাধ্যমে ইসলাম ধর্ম করেছি এবং স্থানীয় এক মসজিদের ইমামের সম্মুখে ‘লা-ইলাহা ইল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুল্লাহ (সাঃ) পাঠ করে পবিত্র গ্রন্থ আল কোরআনের উপর বিশ্বাস স্থাপন করেছি। আল্লাহ তাআলা এই তিন যুবকের মত আরও অনেককে ইসলাম গ্রহন করার তাওফিক দান করুন।

জীবনের সব রহস্য কোরআনে খুঁজে পেয়ে ইসলাম গ্রহন করলেন কেনিয়ান যুবক অস্টিন

ইসলাম শিক্ষা দেয় যে আল্লাহ দয়ালু, করুনাময়, এক ও অদ্বিতীয়। ইসলাম মানব জাতিকে সঠিক পথ দেখায়। ইসলামী বিশ্বাস অনুসারে, আদম হতে শুরু করে আল্লাহ্ প্রেরিত সকল নবী ইসলামের বাণীই প্রচার করে গেছেন। যুগে যুগে বহু মানুষ ভিন্ন ধর্ম থেকে ইসলাম গ্রহন করেছেন। তারই ধারাবাহিকতায় এবার ইসলাম গ্রহন করলেন কেনিয়ান যুবক অস্টিন আমানি।

কেনিয়ান যুবক অস্টিন আমানি ৬ জানুয়ারি ২০২০ তার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তটি গ্রহণ করেছে। সে মুসলিম হয়েছে। একটি খ্রিস্টান পরিবারের সদস্য হিসেবে ইসলাম গ্রহণ তার জন্য মোটেও সহজ ছিল না। কেননা শৈশব থেকে সে ইসলাম সম্পর্কে নে’তিবাচক ধা’রণা নিয়ে বড় হয়েছে।

ঘট’নার সূ’ত্রপা’ত যখন তার নতুন স্কুলে ভর্তি হওয়ার সময় হয় এবং নতুন পরিবেশে সে নিজেকে কিভাবে র’ক্ষা করবে সে বিষয়ে তাকে নির্দেশনা দেওয়া হয় এবং নানা কৌ’শল শেখানো হয়। মিডিয়ার প্রচারণার কারণে আমানির পরিবার ইসলাম ও মুসলমান সম্পর্কে অত্য’ন্ত নে’তিবাচক ধা’রণা পো’ষণ করে। তার মা তাকে উপদেশ দেয় সে যেন মুসলিম শিক্ষার্থীদের সঙ্গে না মে’শে। তিনি আমানির সামনে মুসলিমদের যথাসম্ভব ভ’য়ং’কর হিসেবে তু’লে ধ’রলেন। আর এটাই তাকে মুসলিমদের ব্যাপারে ভাবতে বা’ধ্য করল।

স্কুলে যাওয়ার পর আমানি তার মায়ের নির্দেশনা মান্য করে চলল এবং মুসলিমদের থেকে দূরে দূরে থাকল। বিশেষত তাদের সঙ্গে কখনো ওয়াশরুমে যেত না—যখন তারা সেখানে ভি’ড় করত। কিন্তু আমানির একজন মুসলিম সহপাঠীর সহা’নুভূতি ও উত্তম আচরণ তার দৃষ্টি আক’র্ষণ করে। এই ব্যক্তিই আমানির জীবনে বাঁকবদল এনে দেয়। আমানি তাকে Mr. FWOW (First Won’der of the World) বলে অবহি’ত করে। তার আচরণ তাকে মু’গ্ধ করল। বিশেষত সে যখন দেখত মুসলিম সহপাঠী সব সময় সবার সঙ্গে হাসিখুশি, তার ভেতর দু’শ্চি’ন্তার কোনো ছাপ নেই।

এমনকি শিক্ষকের সঙ্গে কোনো সম’স্যায় পড়লেও সে হাসিমুখে থাকে। তার এই সৌহা’র্দপূর্ণ আচরণ মুসলিমদের সম্পর্কে আমানির চি’ন্তাধা’রা পা’ল্টে দেয়। সে তাদের কাছে ঘেঁ’ষতে শুরু করে। মুসলিম সহপাঠীর কাছে তার প্রথম প্রশ্ন ছিল, ওয়াশরুমে বেসিনের সামনে ভিড় করে তোমরা কী করো? সে জানাল, ধর্মীয় প্রার্থনার (নামাজের) আগে আমরা নিজেদের পবিত্র করি—যাকে অজু বলা হয়। উত্তর শুনে মুসলিমদের সম্পর্কে তার ধা’রণা আরো ইতিবাচক হলো।

ঘনি’ষ্ঠতা বাড়ার পর আমানিকে তার মুসলিম বন্ধুরা ইসলাম সম্পর্কিত কিছু বই ও কোরআনের একটি ইংরেজি অনুবাদ দিল। যা বিছানার নিচে রেখে সে গো’পনে পড়তে লাগল। কোরআন পাঠের সম্পর্কে আমানির বক্তব্য হলো, ‘কোরআন পাঠ শুরু করার পর আমার শরীরে আমি অপার্থিব প্রশান্তি অনুভব করি—যা আমি আর কখনো অনুভব করিনি। মানবজীবনের সব রহ’স্য আমি কোরআনে খুঁ’জে পেয়েছি।’

ইসলামের প্রতি আমানির মনে ভালোবাসার যে বীজ বোপিত হয়েছিল তা ফলবান বৃক্ষে পরিণত হওয়ার অপেক্ষায় ছিল। সে এমন একটি ধর্মবিশ্বাসের সন্ধা’নে ছিল যা তাকে জীবনে সুখী হতে এবং আল্লাহর অনুগত বান্দা হিসেবে জীবনযাপন করতে সহায়ক হবে। সুতরাং সে কারো পরামর্শ ছাড়াই দ্রু’ত স্থানীয় মসজিদে যাওয়ার এবং গো’পনে ‘কালেমা’ পাঠ করার সিদ্ধা’ন্ত নিল। কিন্তু তার চলাচলের অবাধ সুযোগ বা অনুমতি ছিল না। শুধু পারিবারিক কাজেই সে বের হতে পারত। সুতরাং তাকে সুযোগের অপেক্ষায় থাকতে হলো। আমানি তার মা-বাবার কাছে একটি ফটোগ্রাফি কোর্সে অংশগ্রহণের অনুমতি চাইল এবং তারা তাতে সম্মত হলো।

এটাই তাকে নাইরোবি শহরের একটি মসজিদে যাওয়ার এবং ‘কালেমা’ পাঠের সুযোগ এনে দেয়। ৬ জানুয়ারি ২০২০ আমানি আনুষ্ঠানিকভাবে ইসলাম গ্রহণ করেন।

শুনে শুনে সম্পূর্ণ কুরআন মুখস্ত করলেন তুরস্কের অন্ধ যায়নাব ইসরা

অন্ধ ইসরা শুনে শুনেই মুখস্ত করলেন পুরো কুরআন
দৃষ্টি প্রতিবন্ধি যায়নাব ইসরা। ছোটবেলা কুরআন শিখতে পারেনি। শৈশব-কৈশোর পেরিয়ে ৩১ বছর বয়সে এসে শুনে শুনেই পুরো কুরআনুল কারিম মুখস্ত করতে সক্ষম হয়েছেন। ইসরার জন্য এটা আল্লাহ তাআলার এক মহা অনুগ্রহ।

তুরস্কের খাটায় প্রদেশের আলেকজান্দ্রিয়া শহরের সরিসিকির উকুর পরিবারে জন্ম নেয়া ইসরা। উকুর পরিবারের ৫ সন্তানের মধ্যে এক সন্তান হলেন ইসরা। ছোট বেলায় তার পবিত্র কুরআন মুখস্ত করার সুযোগ হয়নি।

গত ৪ বছর আগে তিনি নারীদের এক কুরআন প্রশিক্ষণ কোর্সে ভর্তি হন। কুরআন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ভর্তি হয়ে শুরু করেন কুরআন শেখা। তারপর শুনে শুনেই মুখস্ত করতে থাকেন পবিত্র কুরআন। ২ বছরে পবিত্র কুরআন মুখস্ত করতে সক্ষম হন।

২০১৭ সালে তুরস্কের কিয়েসারি শহরে অনুষ্ঠিত এক হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে সফলতার সঙ্গে উত্তীর্ণ হন। এরপর বেশ কয়েক বার তিনি পবিত্র কুরআনুল পুরোপুরি পড়ে শুনিয়েছেন।

যায়নাব ইসরার ভাষায়, নারীদের জন্য কুরআন প্রশিক্ষণ কোর্সে ভর্তি হয়েই আমি পবিত্র কুরআনের অডিও ফাইল শুনতে শুরু করি। কুরআন তেলাওয়াতের অডিও ফাইল শুনে শুনেই পুরো কুরআনুল কারিম মুখস্ত করতে সক্ষম হই।

দৃষ্টি প্রতিবন্ধি ইসরার হৃদয়ে থেকে বেরিয়ে আসবে কুরআনের সমুজ্জ্বল আলো। কুরআনের পাখি যায়নাব ইসরা হোক সমাজের সব নারী-পুরুষের জন্য এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

ইসরার ইচ্ছা শক্তি ও আল্লাহর একান্ত অনুগ্রহই ইসরাকে কুরআন শেখা ও মুখস্ত করার সৌভাগ্য লাভে সহায়তা করেছে। আল্লাহ তাআলা তাকে কুরআনের খাদেম হিসেবে কবুল করুন। আমিন।