মুসলমানদের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্র সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায় !

আইন ও বিচারআন্তর্জাতিক
মুসলমানদের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্র সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায় !
December 12, 2020
Facebook Twitter

ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং নাগরিক অধিকার সুরক্ষার প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্র সুপ্রিম কোর্ট ঐতিহাসিক একটি সিদ্ধান্ত দিলো ৩ জন মুসলিম-আমেরিকান যুবকের পক্ষে। নিজ ধর্মের লোকজনের বিরুদ্ধে গোয়েন্দাগিরি করতে অপারগতা প্রকাশ করায় এই যুবকদের সন্ত্রাসী হিসেবে বিমান ভ্রমণে নিষিদ্ধদের তালিকায় উঠিয়েছিল এফবিআইয়ের এক কর্মকর্তা।

এমনকি, তারা টিকিট কেটে এয়ারপোর্টে গিয়েও বিমানে উঠতে সক্ষম হননি। এমন অপমানজনক ও বিব্রতকর পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে ঐ যুবকেরা সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেন ন্যায়-বিচার প্রত্যাশায়। মামলায় এমন কান্ডের জন্যে এফবিআইয়ের ঐ অফিসারকে ব্যক্তিগতভাবে দায়ী করার অনুমতি চান।

বিমানে বিপজ্জনক যাত্রী’ হিসেবে যে তালিকা রয়েছে সেখানে তাদের নাম থাকার কোনই কারণ নেই। তারা আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারি কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিতে আন্তর্জাতিক অথবা অভ্যন্তরীণভাবে সন্ত্রাসী গোষ্ঠির সহযোগি নন এবং কোন ধরনের ক্রাইমেও কখনো লিপ্ত ছিলেন না।

১০ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার জাস্টিস এ্যামি কোনি ব্যারেটের বেঞ্চে অনুষ্ঠিত বিস্তারিত শুনানী শেষে ৮-০ ভোটে তিন যুবকের পক্ষে রায় দিয়ে বলা হয় যে, তারা এফবিআইয়ের ঐ কর্মকর্তাগণের বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণের মামলা করতে পারবেন।

১৯৯৩ সালের ‘দ্য রিলিজিয়াস ফ্রিডম রেস্টুরেশন এ্যাক্ট’ (the Religious Freedom Restoration Act (RFRA) আইন অনুযায়ী ফেডারেল সরকারের কেউই ধর্মীয় স্বাধীনতা হরণ করা হয়-এমন কোন কাজে লিপ্ত অথবা মদদদান করতে পারেন না।

সে অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে তিনজন সম্মিলিতভাবে এফবিআইয়ের কর্মকর্তা/গণের নামোল্লেখ করে মোটা অংকের ক্ষতিপূরণ দাবিতে মামলার অনুমতি পেলেন। উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে মোহাম্মদ তানভির, জামিল আলজিবাহ এবং নাভিদ শিনওয়ারিকে ফেডারেল সরকারের ‘নো ফ্লাই’ তালিকায় উঠানো হয়।

এ তালিকা শুরু হয়েছে ৯/১১ এ সন্ত্রাসী হামলার পর। সময়ে সময়ে সেখানে নতুন নাম যুক্ত করা হচ্ছে। সর্বশেষ এ রায়ে ট্রাম্প প্রশাসনের মুসলিম বিদ্বেষমূলক আরেকটি আচরণের নিন্দা-উচ্চারিত হলো।

আরো পড়ুন: মার্কিন চাপ সামলাতে তুরস্কের দিকে ঝুঁকছে সৌদি আরব !

আঞ্চলিক বিষয়ে সমন্বয় এবং পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়নের মাধ্যমে সৌদি আরব এবং তুরস্ক স্বাভাবিক সম্পর্কের নতুন যুগে প্রবশে করতে পারে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

তবে তা নির্ভর করছে নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের প্রত্যাশিত পররাষ্ট্রনীতির পরিবর্তন এবং সৌদি প্রশাসনে ওয়াশিংটনের প্রভাবের ওপর।

মিডল ইস্টার্ন স্যাটেজিক স্ট্যাডিজের (ওআরএসএএম) প্রধান আহমেদ উসাল তুর্কি সংবাদমাধ্যম ডেইলি সাবাহকে বলেন, নতুন মার্কিন প্রশাসন যদি প্রত্যাশিত নীতি গ্রহণ করে, সৌদি আরব যদি যৌক্তিকভাবে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ করে তাহলে সৌদি-তুরস্ক সম্পর্কের নতুন যুগ আমরা প্রত্যাশা করতে পারি।

‘আঞ্চলিক দুই শক্তির মধ্যে সংঘাতের কোনো প্রয়োজন নেই। সৌদি আরব তার অযৌক্তিক অবস্থান থেকে সরে আসলে আঞ্চলিক অনেক বিষয়ে একে অপরকে সহায়তা করতে পারে।’ দু’দেশের ইচ্ছা এবং দৃষ্টিভঙ্গির ওপর সবকিছুই নির্ভর করছে। তুরস্ক এ ধরনের সহযোগিতার জন্য প্রস্তুত। বলেন উসাল।

কাতার বিশ্ববিদ্যালয়ের ইবনে খালদুন সেন্টারের সহকারী অধ্যাপক আলি বাকের বলেন, সৌদি-তুরস্ক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে দীর্ঘমেয়াদী অনুমান এ মুহূর্তে কঠিন। তবে গেল দু’মাসে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উন্নতি ইতিবাচিক ইঙ্গিত দেয়।

রিয়াদ-আঙ্কারা বিষয়ে বাইডেনের নীতি অন্যদিকে ওয়াশিংটনের সঙ্গে তেহরানের সম্ভাব্য চুক্তিসহ সৌদি-তুরস্ক সম্পর্ক আরও অনেক কিছুর ওপর নির্ভর করে। উসাল বলেন, ২০১১ সালে আরব বসন্তের পর দু’দেশের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটে।

তবে বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদের শাসনামলে তুলনামূলকভাবে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উন্নত হয়েছে। তারপর ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় এসে সম্পর্ক উন্নয়নের ধারাকে ব্যাহত করেন।

যখন সৌদির শাসনভার ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের (এমবিএস) হাতে ন্যস্ত করেন, আঞ্চলিক নতুন একটি ক্ষমতা কেন্দ্র তৈরি হয়, তখন তুরস্ক থেকে আবারও সৌদি আরব দূরে সরে যায়। উলদাগ বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের প্রধান তাইয়ার আরি উল্লেখ করেন, ২০১৭ সালে সৌদি প্রশাসনে কিছু উলটপালট হয়।

ট্রাম্পের সমর্থনে একক ক্ষমতার অধিপতি হয়ে ওঠেন এমবিএস। তখন একপাশে পড়ে যান বাদশাহ। তিনি বলেন, এমবিএস’র বিদেশ পরিকল্পনার সঙ্গে বাদশাহ সালমানের নীতির ব্যাপক পার্থক্য রয়েছে। ‘এমবিএস ক্ষমতা পেয়ে সৌদি পররাষ্ট্রনীতিতে আমূল পরিবর্তন শুরু করেন।

মুসলিম ব্রাদারহুডসহ আরব বসন্ত সমর্থনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক বৈরী পদক্ষেপ নেন। সহমর্মিতা প্রকাশ করেন ইসরাইলপন্থীতের প্রতি।’ বলেন আরি। এ নীতিগুলো বাস্তবায়নে সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং মিশরকে নিয়ে জোট গঠন করে সৌদি আরব। আরি বলেন, তুরস্ক তখনও কর্তৃত্ববাদী এমবিএস’র শাসন এবং নীতিকে উপেক্ষা করে সৌদি বাদশাহ সালমানকে দেশটির বৈধ শাসক হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে আসছিল।

দু’দেশের মধ্যকার আন্তরিকতা শূন্য সম্পর্ক সত্ত্বেও গেল মাসের মাঝামাঝিতে সৌদি বাদশাহ সালমানের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইপ এরদোয়ান। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নে বিভিন্ন উপায় নিয়ে আলোচনা করেন তারা।

ভাগাভাগি করেন নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি। ২০১৮ সালে ইস্তাম্বুলে সৌদি সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যার পর দু’নেতার মধ্যে এটাই সরাসরি প্রথম কথপোকথন। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়ন এবং সংকট সমাধানে আলোচনা অব্যাহত রাখতে একমত হন তুর্কি প্রেসিডেন্ট এবং সৌদি বাদশাহ। পররাষ্ট্রনীতি এবং আঞ্চলিক বিভিন্ন ইস্যুতে বেশ কয়েক বছর ধরে সৌদি আরব এবং তুরস্কের মধ্যে সম্পর্ক ভালো যাচ্ছে না।

ইস্তম্বুলের সৌদি কনস্যুলেটে জামাল খাশোগি হত্যা পরিস্থিতিকে আরও উস্কে দেয়। খাশোগি হত্যার ঘটনা বিশ্বব্যাপী তীব্র নিন্দার জন্ম দেয়। বৈশ্বিকভাবে ভাবমূর্তি সংকটে পড়েন এমবিএস। তুর্কি কর্মকর্তারা জানান, খাশোগিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। টুকরো টুকরো করা হয় তার মরদেহ। কনস্যুলেটের ভেতরে নৃশংস এ কাজে অংশ নেয় সৌদি খুনি দলের ১৫ সদস্য।

খাশোগির দেহাবশেষ এখনও পাওয়া যায়নি। এরদোয়ান বলেন, সৌদি সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নির্দেশে খাশোগিকে হত্যা করা হয়েছে। গেল বছর সৌদি আদালত হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকায় ৫ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। সেপ্টেম্বরে সেই রায় বাতিল করেন সৌদির উচ্চ আদালত। একতরফা চলে এ বিচার কাজ। অভিযুক্তদের সাজা কমিয়ে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

২৪ নভেম্বর খাশোগি হত্যায় জড়িত সন্দেহে নতুন করে ৬ সৌদি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনে তুরস্কের বিচার বিভাগ। বিচার চলাকালে আদালত জানান, হত্যাকাণ্ডের সত্য ঘটনা উন্মোচন করা প্রয়োজন। ওইদিন মামলার দ্বিতীয় শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। চারমাস আগে প্রথম শুনানি হয়। বর্তমানে ২৬ সৌদি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে খাশোগি হত্যার অভিযোগে তাদের অনুপস্থিতিতে বিচার কাজ চলছে।

২১ নভেম্বর রয়টার্স জানায়, এক বিবৃতিতে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদি জানান, তুরস্কের সঙ্গে সৌদি আরবের ভালো এবং বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। ২১ থেকে ২২ নভেম্বর সৌদি আরবে জি-২০ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ভার্চুয়ালি এ সম্মেলন অংশ নেয় তুরস্কও। সম্মেলনে তুর্কি পণ্য বর্জনের বিষয়টি অস্বীকার করেন সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

অক্টোবরে সৌদি এবং আমিরাতের সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারীরা তুর্কি পণ্য বর্জের আহ্বান জানায়। যদিও তাদের এ আহ্বানে তুর্কি পণ্য বাজারে খুব একটা প্রভাব পড়েনি বলে জানায় আঙ্কারা।

সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী সম্মেলনে জানান, নিরাপত্তা উদ্বেগ নিরসনের মাধ্যমে কাতারের সঙ্গে চলমান সংকট সমাধানের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে সৌদি আরব। ২০১৭ সালে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন এবং মিশর কাতারের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে। দেশটির বিরুদ্ধে স্থল, জল এবং আকাশপথে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।

তাদের অভিযোগ, দোহা সন্ত্রাসবাদে সহযোগিতা করছে। বরাবরই এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে কাতার। নিষেধাজ্ঞা চলাকালে কাতারকে দেয়া সহায়তা জোরদার করে তুরস্ক। বর্জনের কারণে কাতারের জনগণের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিশ্চিতে খাদ্যসহ নানান সামগ্রী পাঠায়