ইসলামে নারীদের পর্দা; একটি অপরি’হার্য বিধান

ইসলামে নারীর প’র্দা : একটি অপ’রিহার্য বিধান। চার ইমাম কুরতুবী রহ. বলেন, জিল’বাব হলো নারীর এমন পো’শাক যা দিয়ে তারা পুরো দে’হ ঢে’কে রাখে। অর্থাৎ বাইরে গমনের সময় দে’হের সাধারণ পোশাক- জামা, পাজামা, ওড়না ইত্যাদির উপর আলা’দা যে পোশাক পরিধান করার মাধ্যমে নারীদের আপাদ’মস্তক আবৃত করা যায় তাকে জিল’বাব বলা হয়।

আমাদের দেশে যা বোর’কা নামে পরিচিত। এ থেকে বুঝা যায় যে, বাইরে গমনের সময় বোরকা পরি’ধান করে আপাদ’মস্তক আবৃত করে বের হওয়া আব’শ্যক। আর আয়াতে জিলবাবের একাংশ নিজেদের উপর টেনে দেয়ার যে নির্দেশ দেয়া হয়েছে, তা দ্বা’রা উদ্দেশ্য হলো মাথা ও মুখ’মন্ডল ঢেকে নেয়া।

যা সাহাবী, তাবেয়ী ও নির্ভর’যোগ্য মুফাসসিরদের তাফসীর থেকে প্র’তিভাত হয়। এ প্রসঙ্গে আলোচ্য আয়াতের ব্যা’খ্যায় প্রখ্যাত সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. বলেন, আল্লাহ তাআলা (এ আয়াতে) মুমিন নারী’দেরকে নির্দেশ দিয়েছেন, প্রয়োজনে তারা যখন বাইরে যাবে তখন তারা যেন জিল’বাব দিয়ে (পুরো দে’হ আবৃত করার পর) তাদের মাথার উপর দিক থেকে তাদের মুখ’মন্ডলও আবৃত করে নেয়। তবে তারা (চলাফেরার সুবিধা’র্থে) একটি চোখ খোলা রাখবে। (ইবনে কাসীর: ৬/৪৮২)

প্রখ্যাত তা’বেয়ী মুহাম্মদ ইবনে সিরীন রহ. বলেন, আমি আবী’দাহ সালামানীহকে এ আয়াতের ব্যাখ্যা সম্পর্কে জি’জ্ঞাসা করলাম তখন তিনি তার মাথা ও মুখ’মন্ডল ঢেকে নিলেন। অর্থাৎ তিনি বুঝিয়েছেন যে, এ আয়াতে (পুরো দে’হ আবৃত করার পর) মাথা ও মুখ’মন্ডল ঢেকে রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। (ইবনে কাসীর: ৬/৪৮২) সাহাবী ও তাবেয়ী’গণের পরবর্তী মুফাস’সিরদের ব্যাখ্যার দিকে তাকালেও দেখা যায় যে, ইবনে জারীর তবারী, ইবনে কাসীর, বায়যাবী, বাগভী, নাসাফী, সুয়ূতি, আবু বকর জাসসাস, মুফতি মুহাম্মদ শফি সহ সকল তাফসীর’কারকগণ এ আয়াতের অনুরূপ ব্যাখ্যাই করেছেন।

অর্থাৎ সকলে একমত পোষণ করেছেন যে, এ আয়াতে নারীদের-কে তাদের চেহারাসহ আপাদ’মস্তক আবৃত করে বের হওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এতে বাইরে গমনকা’লীন পর্দার অপরি’হার্যতা প্রমা’ণিত হয়। আর এ ব্যা’পারে সর্বো’পরি কথা হলো, কোনো প্রয়োজনে নারী-কে বাইরে যেতে হলে তখন তার জন্য আবশ্যক হচ্ছে চেহারা’সহ গোটা দে’হ আবৃত করে পূর্ণ পর্দার সহিত বের হওয়া। যা সর্বস’ম্মতিক্রমে ফরয।

এক্ষে’ত্রে জিলবাব বা বোরকা পরিধা’নের মাধ্যমে আপাদ’মস্তক আবৃত করে নিবে। প্রয়োজনে চেহারা বা মুখ’মন্ডলের জন্য আলাদা নিকাব ব্যবহার করবে। আর হাতের কব্জি ও পায়ের গোড়ালীর জন্য মোজা প’রিধান করবে। তবে চলাফেরার সুবি’ধার্থে রাস্তা-ঘাট দেখার জন্য শুধু চোখ খোলা রাখবে।

বৃদ্ধা অব’স্থায় পর্দা: বয়স্ক নারীদের জন্য পর্দা পালনের ক্ষেত্রে কিছুটা শিথি’লতা গ্রহণেন অবকাশ রয়েছে। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা বলেন, “অতি’শয় বৃদ্ধা নারী, যারা বিবাহের আশা রাখে না, তাদের জন্য অপ’রাধ নেই, যদি তারা তাদের সৌর্ন্দয প্রদর্শন না করে তাদের অতি’রিক্ত বস্ত্র খু’লে রাখে। তবে এ থেকে বির’ত থাকাই তাদের জন্য উত্তম। আর আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।” (সূরা নূর: ৬০)

আয়াতের নির্দেশনা হলো, যে বৃদ্ধা নারীর প্রতি কেউ আক’র্ষণ বো’ধ করে না এবং সে বিবাহেরও যোগ্য নয় তার জন্য পর্দার বিধা’ন শি’থিল করা হয়েছে। গায়’রে মাহরাম ব্যক্তিও তার কাছে মাহরামমের ন্যায় হয়ে যায়। মাহরামদের কাছে যেসব অঙ্গ আবৃত করা জ’রুরী নয়।

বৃদ্ধা নারীদের জন্য গা’য়রে মাহরাম পুরুষদের কাছেও সেগুলো আবৃত করা জ’রুরী নয়। এরূপ বৃদ্ধা নারীর জন্য বলা হয়েছে, মাহরাম পুরুষদের সামনে যেসব অ’ঙ্গ খু’লতে পারবে, গায়রে মাহরাম পুরুষদের সামনেও সেগুলো খুলতে পারবে। (তাফসীরে মা’আরেফুল কুরআন: ৬/৪৩৯)

এ ব্যা’পারে সর্বো’পরি কথা হলো, চ’রম বা’র্ধক্যে পৌঁছার কারণে যেসকল নারী বিবাহের উপযুক্ত নয় এবং যাদের প্রতি কারো আকর্ষণ সৃষ্টি হয় না, এ ধরনের বৃদ্ধা নারীর জন্যই এ বিধা’ন। তাদেরদকে এই সু’বিধা দেয়া হয়েছে যে, গায়রে মাহরাম পুরুষের সামনে অন্যান্য নারীদের-কে যেমন আপা’দমস্তক ঢেকে রাখতে হয়, তাদের জন্য তা জ’রুরী নয়।

এ রকম বৃদ্ধা নারীগণ তা ছা’ড়াই পরপুরুষের সামনে যেতে পারবে। তবে শ’র্ত হল, তারা তাদের সামনে সেজেগুঁজে যেতে পারবে না। এর সাথে স্প’ষ্ট করে দেয়া হয়েছে, তাদের ক্ষে’ত্রে বিধানের এ শিথিল’তা কেবলই জায়েয পর্যায়ের।

সুতরাং তারা যদি বা’ড়তি সত’র্কতা অবলম্বন করে এবং অন্যান্য নারীদের মত তারাও পরপুরুষের সামনে পুরোপুরি পর্দা র’ক্ষা করে চলে তবে সেটাই তাদের জন্য উত্তম। (তাফসীরে তাওযীহুল কুরআন: ২/৪৬৮)

পরিশে’ষে বলছি, এ বিধানের ব্যাপারে সারকথা হলো, কুরআন-সুন্নাহর আলোকে সর্বস’ম্মতিক্রমে হিজাব বা পর্দা আল্লাহ তাআলার প’ক্ষ থেকে নারী জাতির জন্য এক ফরয বিধান। সর্বাব’স্থায় এ বিধানের প্রতি পূর্ণ স’মর্পিত থাকা অপ’রিহার্য। তবে চিকিৎসা;ইত্যাদি বিশে’ষ প্রয়োজনের ক্ষেত্রে প্রয়োজন মাফিক শিথি’লতা গ্রহণের অবকাশও অবশ্যই রয়েছে। আল্লাহ তাআলা যথায’থভাবে এ বিধান পালনের তাওফীক দান করুক, আমিন।