সন্তানের জন্য খাবার কিনতে নিজের চুল বিক্রি করে ছিলেন মা

সাভারে সন্তানের খাবার কিনতে নিজের চুল বিক্রি করে দিয়ে ছিলেন অসহায় এক মা। এলাকায় নতুন হওয়ার কারণে কারও সহায়তা না পেয়ে নিজের চুল বিক্রি করে ছিলেন বলে জানান ওই নারী।

দুইদিন ধরে ঘরে কোনো খাবার ছিল না তার। ত্রাণের জন্য ঘুরেছেন অনেকের দরজায়। নিজের ক্ষুধা হয়ত সহ্য করা যায়, কিন্তু ১৮ মাসের শিশুর কান্না যেন তার বুকে শেলের মতো ধাক্কা দেয়। তাই হকারের (চুল ক্রেতা) কাছে মাথার চুল বিক্রি করে দিয়ে ছিলেন ওই নারী।

২০ এপ্রিল দুপুরে ঢাকার সাভারের ব্যাংক কলোনি এলাকায় ঘটে এমন ঘটনা। ওই নারীর নাম সাথী বেগম। কাজের সন্ধানে ময়মনসিংহ থেকে মাস চারেক আগে রাজধানীর মিরপুর ও তার কিছুদিন পর সাভারের ব্যাংক কলোনি এলাকায় আসেন তিনি।

করোনার এই মহামারি সময় এমন হাজারো মা, সন্তানের জন্য কত কষ্টই না সহ্য করছেন।

স্যালুট জানাই সকল মায়েদের, বিনম্র শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।

ইসলামের জন্য গান-বাজনা ছেড়ে দিবেন জনপ্রিয় শিল্পী আতিফ আসলাম

সঙ্গীত পাড়ার সবচেয়ে আলোচিত টপিক এখন, পাকিস্তানের বিখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী আতিফ আসলাম আর গান করছেন না। জনপ্রিয় সাংবাদিক ও কলামিষ্ট হামিদ মীর এক সাক্ষাৎকারে আতিফ আসলামকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, শোন যাচ্ছে আপনি আর মিডিয়া ইন্ডাস্ট্রিতে থাকছেন না? জবাবে আতিফ বললেন, বিষয়টি একান্তই আমার ব্যক্তিগত।

তবে আমি এই অস্থায়ী বিশ্বে বেঁচে থাকাকালীন ধার্মিক হয়ে বেঁচে থাকতে চাই। সঙ্গীতটা একেবারেই ছেড়ে দিব বিষয়টা এমন নয়, তাজেদারে হারাম ও আল্লাহ ৯৯ নামের সঙ্গীতধর্মী কাজগুলো হয়তো বেশি করবো সামনে।

আতিফ আরো জানান, সঙ্গীত মানুষকে খুব প্রভাবিত করে সুতরাং আমার গান দ্বারা মানুষ ভালোর দিকে প্রভাবিত হোক আমি এমনটা চাই। সম্প্রতি তাজেদারে হারাম, আজান ও আল্লাহর ৯৯ নাম নিয়ে সঙ্গীত করে বিশ্বব্যাপি ভালো সাড়া পেয়েছে ন আতিফ আসলাম। ভাবা হচ্ছে, নতুন ধরনের এই ধর্মীয় সাড়া বর্তমান সিন্ধান্ত গ্রহণের নেপথ্যে ভূমিকা পালন করছে।

বৌদ্ধ ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম গ্রহণ জাপানী তরুণীর

একসময় হতাশায় ছিলাম। ভাবতাম জীবন মানে পড়াশুনা, কাজ, বিয়ে এবং সংসার। কিন্তু মুসলিম হওয়ার পর জীবনের মর্ম বুঝেছি। আল্লাহর এবাদতের জন্য এখন আমার এ জীবন। এই কথা গুলো বলেছেন জাপানি এক তরুণী যিনি বৌদ্ধ ধর্মানুসারী ছিলেন পরে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন।

জাপানি ওই তরুণীর নাম নুর আরিসা মরিয়ম। বর্তমানে তিনি যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন। তবে শিশুকাল থেকে বেড়ে উঠেছেন টোকিওতে।

ইসলাম গ্রহণের কারণ হিসেবে তিনি বলেন, টোকিওতে বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার মেজর বিষয় ছিল মালেশিয়ান স্টাডিজ। এবং এতে একটি লেকচারে একজন হিজাবি মুসলিম নারীর বিষয় পড়ানো হয়।এসময় আমি ইসলাম সম্পর্কে জানতে পারি এরপর অনেক মুসলিমদের সঙ্গে আমি দেখা করি এবং একপর্যায়ে আবিষ্কার করি শান্তির জন্য ধর্ম হল ইসলাম।

আরিসার ইসলাম ধর্ম গ্রহণের বিসয়টি ভালোভাবে মেনে নিতে পারেননি তার মা। তবে একপর্যায়ে তিনি তা মেনে নেন। আরিসা বলেন, আমি জানি আমার জীবনে এখনও অনেক সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ আছে। কিন্তু এসব সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ আল্লাহর দেয়া পরীক্ষা।

আজানের সুমধুর ধ্বনি আমাকে ইসলামের পথ দেখিয়েছে : অ্যালান রুনি

জীবনে কখনো কোনো মুসলিমের সান্নিধ্যে আসার সুযোগ হয়নি স্কটল্যান্ডের পাহাড়ি অঞ্চলের বাসিন্দা শ্বেতাঙ্গ অ্যালান রুনির।

কিন্তু হঠাৎ একদিন তার কানে ভেসে এলো আজানের সুমধুর ধ্বনি। এটা তাকে বিমোহিত করে। এরপর তিনি পবিত্র কোরআন অধ্যয়ন শুরু করেন। অবশেষে তিনি ইসলাম গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেন।

তার ইসলাম গ্রহণের কাহিনী নিয়ে ব্রিটেনের ইন্ডিপেনডেন্ট পত্রিকায় এক নিবন্ধ লিখেছেন রুনি।

আসুন তার বয়ানেই শুনি সেই মনোমুগ্ধকর কাহিনী:

‘তুরস্ক ভ্রমণকালে আমি একটি সৈকতে ছিলাম। সে সময় স্থানীয় একটি মসজিদ থেকে আজানের ধ্বনি ভেসে আসে। আমি এটা শুনলাম এবং নিজের ভেতরে নতুন কিছু অনুভব করতে লাগলাম। এটা আমাকের আধ্যাত্মিকতার সন্ধান করতে অনুপ্রাণিত করলো।

দেশে ফিরে আমি স্থানীয় একটি লাইব্রেরিতে গিয়ে পবিত্র কুরআন অধ্যয়ন শুরু করলাম। অধ্যয়ন করার সময় আমি ঈশ্বরকে বলতাম আমি যে যাত্রা শুরু করেছি তাতে তোমার পথনির্দেশনা চাই।

কোরআন অধ্যয়নের সময় আমি বহুবার প্রার্থনা করেছি।

পবিত্র কোরআন আমাকে বিমোহিত করে। এটা বিস্ময়কর একটি গ্রন্থ যেখানে আমি দেখতে পাই যে আমাদের নিজের সম্পর্কে অনেক কথা বলা হয়েছে যা আমার মধ্যে নেই। আমি নিজেকে কিছুটা বদলে ফেলার সিদ্ধান্ত নেই।

আমি জানতাম আমি যে কোনো সময় কোরআন অধ্যয়ন শেষ বন্ধ করে দিয়ে এই প্রক্রিয়ার সমাপ্তি টানতে পারি। কিন্তু আমি জানতাম এটা করা হলে তা হবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছেড়ে যাওয়া।

এবং আমি জানতাম যে এই প্রক্রিয়ার শেষ হলো আমি একজন মুসলিম হবো। কাজেই আমি অধ্যয়ন অব্যাহত রাখলাম। আমি তিনবার কোরআন অধ্যয়ন করলাম। আমি প্রতিটি বিষয়ে স্বস্তি অনুভব করলাম।

আমি অনলাইনে খোঁজাখুঁজি করে সময় কাটাতে লাগলাম যাতে আমার মত কারো অভিজ্ঞতা হয়েছে কিনা তা জানা। কিন্তু দেখলাম ইসলামের পথে প্রত্যেকের যাত্রাই অতুলনীয়।

এই প্রক্রিয়ায় আমার ১৮ মাস সময় লাগলো। কারো এর চেয়ে বেশি সময় লাগে, কারো লাগে কম সময়। তবে আমি এটা নিজেই করলাম, কারো সহায়তা ছাড়াই। তখন পর্যন্ত আমি কোনো মুসলিমের সাথে সাক্ষাৎ করিনি।

১৮ মাস পরে আমি নিজেকে মুসলিম হিসেবে ভাবতে লাগলাম। আমি দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করি, রোজা রাখি এবং কোরআনের নির্দেশ অনুসারে পানাহার করি।

পরে আমি দেখতে পাই আমার শহরে ছোট একটি মসজিদ আছে। আমি নিজেই সেখানে গেলাম, দরজায় কড়া নাড়লাম এবং নিজের পরিচয় দিলাম।

তারা প্রথমে আমাকে দেখে বিস্মিত হলো এবং আমাকে তাদের সম্প্রদায়ে স্বাগত জানালো। শুরু থেকেই তারা আমাকে গ্রহণ করলো এবং এখন আমি এই সম্প্রদায়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

অবশ্যই, আমার এখনো অনেক কিছু শেখার আছে।

পবিত্র কোরআনের শিক্ষা মানলে আপনি নিজের স্বকীয়তা বজায় রাখতে পারবেন।

আমি এখন একজন শ্বেতাঙ্গ, মধ্যবয়সী স্কটিশ মুসলিম এবং এটা নিয়ে আমি সুখী।’