বুকটা কেঁপে উঠলো ঘটনাটি পড়ে, হযরত ফাতিমা (রাঃ) এর ইন্তেকাল (সম্পূর্ণ ঘটনা)

হযরত আলী রাঃ,ফজরের নামাজ আদায় করার জন্য মসজিদে গেছেন ৷ এদিকে হযরত ফাতিমা রাঃআঃ,গায়ে অত্যান্ত জ্বর অবস্থায়৷ ঘরের সমস্ত কাজ, শেষ করেছেন ৷আলী রাঃ, মসজীদ থেকে এসে দেখে,ফাতিমা কাঁদতেছেন, আলী (রাঃ),প্রশ্ন করলেন,ও ফাতিমা তুমি কাঁদ কেন?

ফাতিমা কোন উত্তর দিলেন না৷ ফাতিমা আরো জোরে জোরে কাঁদতে লাগলেন, আলী রাঃ কয়েকবার প্রশ্ন করার পরে, ফাতিমা রাঃ কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ও আলী,,,,,আমি স্বপ্নের মধ্যে দেখতেছি,আমার আব্বাজান, হযরত মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ্ সাঃ আমার ঘরের মধ্যে ঢুকে কি যেন তালাশ করতেছেন ঘর থেকে বাহির হওয়ার সময়,

আমি পিছন দিক থেকে,আমার আব্বাজান কে ডাক দিলাম৷ ও আব্বাজান আপনি কি তালাশ করতেছেন? আব্বাজান মুহাম্মাদুর রা:(সঃ) বলতেছেন, ও আমার ফাতিমা, আমিতো তোমাকে তালাশ করতেছি, তোমাকে নিয়ে যাওয়ার জন্য৷

আরো বললেনঃ ও আমার ফাতিমা,আজকে তো তুমি রোজা রাখবা ৷ সাহরী করবা আলীর দস্তরখানায়, আর ইফতার করবা আমি আব্বাজানের দস্তরখানায় ৷৷৷ আলী (রাঃ) এই স্বপ্ন শোনার পর, দু’জনের বুঝতে বাকী থাকলোনা, যে ফাতিমা আজকেই ইন্তেকাল করবেন৷ দুনো জন আরো জোরে জোরে কাঁদতে লাগলেন৷

এই সময়ের মধ্যে হযরত হাসান হুসাইন (রাঃ) এসে জিজ্ঞাসা করতেছেন, ও আব্বাজান ও আম্মাজান আপনারা দু জন কাঁদেন কেন? ফাতিমার রাঃ এর একটা অভ্যাস ছিল, যখন হাসান হুসাইন রাঃ কোন কাজে বিরক্তনকরতেন, তখন দু জনকে নানাজান এর কবরের কাছে যেতে বলতেন।

আজকে ও ফাতিমা বলেন,তোমরা দুনোভাই এখন নানার কবরে চলে যাও, কবরের নিকট যাওয়ার সাথে সাথে,কবর থেকে আওয়াজ আসলো,ও আমার আদরের নাতীরা, এই মূহুর্তে তোমরা আমার কাছে কেন আসছো,

আমার কাছে তো সব সময় আসতে পারবা, এখন যাও, যেয়ে মায়ের চেহারার দিকে তাকায়ে থাক, আজকের পরে তোমাদের মাকে আর পাবেনা৷ এই কথা শোনার পরে,দুভাই কাঁদতেছে আর দৌড়াতে দৌড়াতে আম্মার নিকট চলে গেলেন। যেয়ে আম্মাকে বললেন যে, তোমরা দুনোজন কেন কাঁদতেছ বুঝেছি, নানাজান আমাদেরকে বলে দিয়েছেন,

আজকের দিনটা তোমার জন্য শেষ দিন, নানাজান তোমার চেহারার দিকে তাঁকায়ে থাকার জন্য আমাদের কে বলেছেন৷ বিকেলের দিকে হজরত ফাতিমা (রাঃ) এর শরীর বেশি খারাপ হলো। তাকে বিছানাতে শোয়ানো হলো। ফাতিমা রাঃ মৃত্যুর পূর্বক্ষনে আলী রাঃ কে,তিনটি কথা বলেন ৷

(০১) ও আলী যেদিন থেকে আমি আপনার ঘরে এসেছি, ঐ দিন থেকে নিয়ে, আজ পর্যন্ত আপনাকে আমি অনেক কষ্টট দিয়েছি,আলী আপনি যদি আমাকে ক্ষমা না করেন, তাহলে কিয়ামতের ময়দানে,

আমি সন্তানের কারনে, (আমি মেয়ের কারনে) আমার আব্বাজান অনেক লজ্জীত হবেন৷ বলেন আপনি আমাকে ক্ষমা করলেন কি না,আলী রাঃ বলেন ও ফাতিমা, তুমি এসব কি বলতেছো,

আমি আলী তো তোমার যোগ্য ছিলাম না, তোমার আব্বাজান দয়া করে মেহেরবানী করে তোমাকে আমার,,, কাছে বিয়ে দিয়েছেন,বিয়ের দিন থেকে নিয়ে আজ পর্যন্ত, আমি আলী তোমাকে কোনদিন ঠিকমত দুইবেলা খানা খাওয়াতে পারিনাই, ও ফাতিমা তুমি বল, আমাকে ক্ষমা করছো কি না, তুমি যদি আমাকে ক্ষমা না কর, তাহলে আমাকে ও কিয়ামতের দিন কঠিন শাস্তি ভোগ করতে হবে ৷

(০২) ও আলী আপনার সাথে আমার দ্বিতীয় কথা হল, আমি মারা যাওয়ার পরে, আপনি বিয়েকরে নিবেন, দুনিয়ার যে কোন মহিলাকে, আপনার পছন্দমত৷ আপনাকে আমি অনুমতি দিলাম৷ আর আমার বাচ্চা দুইটাকে, সপ্তাহে একটা দিন আপনার কোলের মধ্যে করে নিয়ে ঘুমাবেন৷৷

(০৩) ও আলী আপনার সাথে আমার তৃতীয় কথা হল, হাসান হুসাইন যখন বালেগ হবে,তখন দুনো ভাইকে আল্লাহর রাস্তায় সপর্দ করে দিবেন৷ এবং আমাকে রাতের বেলায় দাফন করবেন। হজরত আলী (রাঃ) বললেনঃ “তুমি নবীর মেয়ে। আমি সবখানে খবর দিয়ে তোমায় দাফন করবো।

এতে সমস্যা কি? হজরত ফাতিমা (রাঃ) বললেনঃ “আামার কাফনের কাপড়ের ওপর দিয়ে সবাই অণুমান করবে যে, নবীর মেয়ে কতটুকু লম্বা ছিলো, কতটুকু সাস্হ ছিলো। এতে আমার পর্দা ভঙ্গ হবে।”হজরত ফাতিমা (রাঃ) এর ইন্তেকালের পর তাঁর লাশের খাটিয়া বহন করার মানুষ মাত্র তিনজন। হজরত আলী (রাঃ) এবং শিশু হাসান ও হোসাইন (রাঃ)আনহুমা ৷

হজরত আলী ভাবছিলেন যে, খাটিয়া বহন করার জন্য মানুষ আরও একজন প্রয়োজন তবেই চার কোনায় চার জন কাঁধে নিতে পারবেন।

এমন সময় হজরত আবু জর গিফারী (রাঃ) এলেন ও খাটিয়ার এক কোনা বহন করলেন। হজরত আলী প্রশ্নকরলেন, ও আবুজর আমি তো কাউকে বলিনাই, আপনি জানলেন কিভাবে ? হজরত আবু জর গিফারী (রাঃ) বলেন,আমি আল্লাহর রসুল (সঃ) কে স্বপ্নে দেখেছি। তিনি বললেন, হে আবু জর!

আমার ফাতিমার লাশ বহন করার জন্য লোকের অভাব, তুমি তাড়া তাড়ি চলে যাও। ও আলী আমাকে তো হুজুরে আকরাম সঃ আসতে বলছেন ৷হযরত ফাতিমা রাঃ আনহা কে যখন কবরে নামাচ্ছেন,

তখন হজরত আবু জর গিফারী (রাঃ) কবরের কাছে গিয়ে কবরকে উদ্দেশ্য করে বললেন.. আতাদরী মানিল্লাতী জি’না বিহা ইলায়কা? হে কবর, তুই কি জানিস, আজ তোর মধ্যে কাকে রাখছি?

০১ হা-যিহী সায়্যিদাতু নিসায়ী আহলিল জান্নাতী ফা-তিমাতা রাঃ আনহা,এটা জান্নাতের সকল মহিলাদের সর্দার,ফাতিমা (রাঃ)আনহা৷কবর থেকে কোন আওয়াজ নাই৷ ০২ হা-যিহী উম্মূল হাসনাইন রাঃ আনহুমা ,এটা হযরত হাসান হুসাইন এর আম্মা ৷ এবার ও কবর থেকে কোন আওয়াজ নাই।

০৩ হা-যিহী ঝাউযাতু আলিয়্যিন কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহ্, এটা হযরত আলী রাঃ এর স্ত্রী! এবার ও কবর থেকে কোন আওয়াজ নাই৷ ০৪ হা-যিহী বিনতু রসুলুল্লাহি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম,এটা ,দো জাহানের বাদশাহের মেয়ে। খবরদার কবর বেয়াদবী করবি না

“”আল্লাহ্ তায়ালা কবরের জবান খুলে দিলেন, কবর বললঃ ০১ আনা বায়তুয-যুলমাতি আমি অন্ধকার ঘর৷ ০২ আনা বায়তুদ-দূদাতী,আমি সাপ বিচ্ছ্যুর ঘর৷ ০৩ আনা বায়তুন-নফরাতী,আমি এমন একটি ঘর,যার মধ্যে কোন বংশ পরিচয় কাজ হয়না.. “আমি দো জাহানের বাদশাহের মেয়ে ফাতিমা কে চিনিনা,

1 হজরত আলীর স্ত্রীকে চিনিনা, হাসান হোসাইনের আম্মাকে চিনিনা, জান্নাতের মহিলাদের সর্দারনীকে চিনিনা,

4 আমি শুধু চিনি- ঈমান আর আমল ক্ষণস্থায়ী দুনিয়ার সকল মোহ থেকে “মহান আল্লাহ “আমাদের হেফাজত করুন।এবং মৃত্যু পরবর্তি কবরের ভয়ানক অবস্থা স্বরণ করে দুনিয়ার প্রতিটি মুহূর্ত অতিবাহিত করার তাওফিক দান করুন।{{{আমিন}}}

মুহাম্মদ সা: নিজ হাতে এই মসজিদের ভিত্তি স্থাপন করেন

নবীর মসজিদ। আরবিতে বলা হয় মসজিদে নববী। হজরত মুহাম্মদ সা: নিজ হাতে এই মসজিদের ভিত্তি স্থাপন করেন।

নবীজি হযরত মুহাম্মদ (সা.) যখন মক্কা থেকে মদীনায় হিযরত করেন, তখন এ শহরটির নাম ছিল ‘ইয়াসরিব’। নবীজি (সা.) আগমনের পরপরই ইয়াসরিব নামটি পবির্তন করে মদিনা নামকরণ করেন।

কিন্তু সেখানে কোন মসজিদ ছিল না যেখানে নবীজিসহ সাহাবীরা নামাজ আদায় করবেন। নতুন হিজরতকারীদের মধ্যে নামাজ আদায়ের জন্য মসজিদের শূন্যতা দেখা দিলে নবীজি (সা.) নিজেই একটি মসজিদের ভিত্তি স্থাপন করেন। আর এ মসজিদের নাম দেন ‘মদীনা মসজিদ’।

যা ‘মসজিদে নববী শরীফ’ (সা.) বা মদিনায়ে মুনাওয়ারা হিসেবে পরিচিত। প্রথম মসজিদটি নির্মাণ করতে সময় লেগেছিল প্রায় ৭ মাস। অর্থাৎ- ৬২২ খ্রিস্টাব্দের সেপ্টেম্বরে থেকে শুরু হয়ে ৬২৩ খ্রিস্টাব্দের মাঝামাঝি পর্যন্ত প্রায় ৭ মাসব্যাপী ১ম মদিনা মসজিদের নির্মাণ কাজের সময় ধরা হয়।

নবীজি (সা.)-এর হস্ত মোবারকে ভিত্তি দেয়া পবিত্র ‘মদিনা মসজিদ’ নির্মাণের জন্য নাজ্জার গোত্রের সাহল ও সোহাইল নামক দুই যুবক থেকে প্রয়োজনীয় জমি ক্রয় করে ছিলেন। এ জমির ক্ষুদ্র একটি অংশে নবীজি (সা.) বাসস্থান নির্মাণ করে বাকি পুরো অংশেই মদিনা মসজিদের নির্মাণ কাজ শুরু করেন।

এ জায়গার প্রতিটি কোণা থেকে তীর নিক্ষেপ করে যে পরিমাণ জায়গা পাওয়া গেল তা হলো মসজিদের একটি ক্ষেত্র। আর এ ক্ষেত্রে বর্গের প্রতিটি বাহুর পরিমাণ দাঁড়ালো ১০০ হাত বা ৫৬ গজ। ১ম নির্মিত পবিত্র মদিনা মসজিদের প্রাথমিক আয়তন ছিল ১০০ ´ ১০০ হাত বা ৫৬ ´ ৫৬ গজ।

মসজিদের ভিত্তি ও দেয়ালের নিম্নভাগ ৩ হাত পর্যন্ত প্রস্তের হিসেবে নির্মিত ছিল। প্রথম পর্যায়ে মদিনা মসজিদ রৌদ্রে শুষ্ক ইট দ্বারা নির্মিত হয়। এই রৌদ্র শুষ্ক ইট ও সিমেন্ট হিসেবে আল-খাবখাবা উপত্যকা হতে আনিত কাদা দ্বারা তৈরি হয়েছিল। তখন মদিনা মসজিদের দেয়াল ছিল ৭ হাত উঁচু। এর ছাদকে শক্তিশালী ও মজবুত রাখার জন্য মদিনা মসজিদের ৩৬টি খেজুর গাছকে স্তম্ভ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল।

মসজিদের ছাদ নির্মিত হয়েছিল খেজুর পাতা দিয়ে। ছাদকে সুন্দর, রৌদ্র ও বৃষ্টি থেকে রক্ষার জন্য খেজুর পাতার উপর কাদামাটির আস্তরণ লেপে দেয়া হয়েছিল। ১ম নির্মিত পবিত্র মদিনা মসজিদে প্রবেশের জন্য ৩টি দরজা ছিল।

প্রধান প্রবেশ পথটি ছিল দক্ষিণ দিকে যা দিয়ে মুসল্লিরা মসজিদে প্রবেশ করতেন এবং বাহির হতেন। পশ্চিম দেয়ালে ছিল মসজিদের দ্বিতীয় প্রবেশ পথ যা ‘বাবে রহমত’ নামে স্বীকৃত। তৃতীয় প্রবেশ পথটি ছিল পূর্ব দেয়ালে যা দিয়ে নবীজি হযরত মুহাম্মদ (সা.) মসজিদে প্রবেশ করতেন। এ জন্য এটির নামকরণ হয় ‘বাব উন নবী (সা.)’।

ঐতিহাসিকদের মতে, মদিনা মসজিদেই সর্ব প্রথম মেহরাব, মিম্বার, আজান দেয়ার স্থান বা মিনার এবং অজুর স্থানের ব্যবস্থা করা হয়। বর্তমানে মসজিদে নববী শরীফ বহুগুণ বড় ও সম্প্রসারিত। সম্পূর্ণ আধুনিক নতুন নকশার ভিত্তিতে এটিকে সম্প্রসারণ ও পুনঃনির্মাণ করা হয়েছে। যাহাতে এক সাথে কয়েক লাখ মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন।

সংস্কার ও সম্প্রসারণ
পবিত্র মসজিদে নববী (সা.) বা মদিনা মসজিদ তখন থেকেই মুসলমান শাসকদের দ্বারা বহুবার সংস্কার ও সম্প্রসারণ করা হয়েছে। নবীজি হযরত মুহাম্মদ (সা.) বিদায় নেয়ার পর ইসলামের দ্বিতীয় খলীফা হযরত ওমর (রা.) ৬৩৮ খ্রিস্টাব্দে মসজিদে নববী (সা.)’র একদফা সম্প্রসারণ ও সংস্কার কাজ করেন।

এসময় মসজিদের উত্তরে ৩০ হাত, দক্ষিণে ১০ হাত ও পশ্চিম দিকে ২০ হাত প্রশস্ত করেন। খলীফা হযরত ওমর (রা.)’র সময় মসজিদের জায়গার পরিমাণ হয় উত্তর-দক্ষিণে ১৪০ হাত এবং পূর্ব-পশ্চিমে ১২০ হাত।

এরপর ৩য় খলীফা হযরত ওসমান গণি জিন্ নূরাইন (রা.)’র খেলাফতকালে ৬৪৬-৬৪৭ খ্রিস্টাব্দে খেজুর পাতার পরিবর্তে মসজিদের ছাদে ব্যবহার করা হয় সেগুন গাছের কাঠ। তখন ছাদের আকার দাঁড়ায় ১৬০ ´ ১৩০ হাত। এ সময় মসজিদের আয়তন হয় উত্তর দক্ষিণে ১৬০ হাত এবং পূর্ব-পশ্চিমে ১৫০ হাত।

পরবর্তীতে খলিফা আল্ ওয়ালিদের সময় মদিনা মসজিদটি আধুনিক ইমারতে পরিণত হয়। ওয়ালিদ ৭০৭ খ্রিস্টাব্দে সম্পূর্ণ নতুন আঙ্গিকে পবিত্র মসজিদে নববী (সা.)-কে সাজিয়ে তোলেন।

তাঁর সময় মসজিদে নববী (সা.)’র আয়তন বেড়ে দাঁড়ায় ২০০ ´ ২০০ হাত। ৭০৭ খ্রিস্টাব্দের এসময়ই সর্ব প্রথম পবিত্র মসজিদে নববী (সা.)’র ৪ কোণায় ৪টি মিনার নির্মাণ করেন বাদশা বা খলিফা আল-ওয়ালিদ। তখন প্রতিটি মিনারের উচ্চতা ছিল ৫০ হাত এবং প্রস্থে ছিল ৮ হাত। এরপর খলিফা মাহদী ৭৭৫-৭৮৫ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে এ পবিত্র মসজিদটি আবারো সম্প্রসারণসহ সংস্কার করেন এসময় এ আয়তন দাঁড়ায় ৩০০ ´ ৩০০ হাত। পরবর্তীতে ১৪৮১ খ্রিস্টাব্দে মামলুক সুলতান কয়েত-বে পবিত্র মসজিদে নববী (সা.)-এর মধ্যে গম্বুজ প্রতিষ্ঠিত করেন।

কিন্তু ১৮৩৯ খ্রিস্টাব্দে পবিত্র এ গম্বুজ শরীফে রং-এর আস্তরণ দিয়ে সবুজ গম্বুজ বানিয়ে ছিলেন ওসমানী সুলতান দ্বিতীয় মাহমুদ। আর সেই থেকেই আজঅবধি মদিনায়ে মুনাওয়ারা তথা পবিত্র মসজিদে নববী শরীফের উপর নূরানী এ সবুজ গম্বুজ শরীফটি কোটি কোটি ঈমানদার তথা আশেকে রাসুল (সা.)দের মাঝে আলোকবর্তিকা ও প্রাণস্পন্দন হয়ে আছে। যা কিয়ামত পর্যন্ত ঈমানি চেতনা দান করবেন নবী প্রেমিকদের অন্তরে।

সর্বশেষ আধুনিকায়নে পবিত্র মসজিদ-এ নববী (সা.)’র নব সজ্জা ও রূপদান করেন সৌদি বাদশাহ আব্দুল আজিজ ইবনে সউদ। এর পরিকল্পনা করা হয় ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দে। ১৯৫৩-১৯৫৫ সাল নাগাদ মসজিদ আধুনিকায়ন করা হয়। বিশালকার এ পবিত্র মসজিদে নববী (সা.)’র সমস্ত রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব সৌদি রাজ পরিবারের।

মসজিদের পাশেই ছিল হজরত মুহাম্মদ সা: এর বসবাসের ঘর। মসজিদের দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্তে রয়েছে একটি সবুজ গম্বুজ। গম্বুজটি নবীর মসজিদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কারণ এ গম্বুজের নিচেই রয়েছে শেষ নবী হজরত মুহাম্মদ সা:-এর রওজা মোবারক। হজরত মুহাম্মদ সা: মসজিদের পাশে যে ঘরে ইন্তেকাল করেন সেখানেই তাকে দাফন করা হয়।

পরে মসজিদ সম্প্রসারণের মাধ্যমে তার রওজা মোবারক মসজিদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

পবিত্র মসজিদে নববী (সা.) তথা মহানবী (সা.)’র রওজা পাকের দু’পাশেই রয়েছে নবীজির প্রাণপ্রিয় ছিদ্দীক ইসলামের ১ম খলিফা হযরত আবুবকর (রা.) ও ২য় খলিফা ফারুকে আজম হযরত ওমর (রা.)-এর রাওজা শরীফ। আল্লাহ আমাদের সকলকে নূরানী নবীজির (সা.) নূরী রাওজায়ে আকদাস শরীফ জেয়ারতের মাধ্যমে জীবনকে ধন্য করার তৌফিক দান করুন। আমীন।

পৃথিবীর প্রথম জমিন হচ্ছে পবিত্র কাবাঘর

মুসলিম ইম্মাহর ভাষ্য মতে এটাকে বলা হয় বাইতুল্লাহ বা আল্লাহর ঘর। কাবা শরিফ ও পবিত্র কাবাঘরও বলা হয়ে থাকে। এই পবিত্র কাবা ঘরের অভিমুখী হয়েই আল্লাহর ইবাদত-বন্দেগি করেন পৃথিবীর কোটি কোটি মুসলিম। সৃষ্টির সূচনা থেকেই মহান পবিত্র এই কাবাকে মহান আল্লাহ তার মনোনীত বান্দাদের মিলনস্থল করেছেন।

আমরা সকলেই জানি , ভৌগোলিকভাবেই গোলাকার পৃথিবীর মধ্যস্থলে কাবার অবস্থান। এ বিষয়ে পিএইচডি করেছেন ড. হুসাইন কামাল উদ্দীন আহমদ। তাঁর থিসিসের শিরোনাম হলো—‘ইসকাতুল কুররাতিল আরধিয়্যা বিন্ নিসবতে লি মাক্কাতিল মুকাররামা।’ (মাজাল্লাতুল বুহুসুল ইসলামিয়া, রিয়াদ : ২/২৯২)

ওই থিসিসে তিনি প্রাচীন ও আধুনিক দলিল-দস্তাবেজের আলোকে এ কথা প্রমাণ করেছেন যে কাবাই পৃথিবীর মেরুদণ্ড ও পৃথিবীর মধ্যস্থলে অবস্থিত। ইসলামের রাজধানী হিসেবে কাবা একটি সুপরিচিত নাম। পানিসর্বস্ব পৃথিবীতে মাটির সৃষ্টি এ কাবাকে কেন্দ্র করেই।

আরেকটি বিষয় হলো, মাটিতে রূপান্তর হওয়ার আগে কাবা সাদা ফেনা আকারে ছিল। সে সময় পৃথিবীতে পানি ছাড়া কিছু ছিল না। আল্লাহর আরশ ছিল পানির ওপর। হাদিসের ভাষ্য মতে, কাবার নিচের অংশটুকু পৃথিবীর প্রথম জমিন। বিশাল সাগরের মাঝে এর সৃষ্টি। ধীরে ধীরে এর চারপাশ ভরাট হতে থাকে। সৃষ্টি হয় একটি বিশাল মহাদেশের। এক মহাদেশ থেকেই সৃষ্টি হয় অন্য সব মহাদেশ। মাটি বিছানোর পর জমিন নড়তে থাকে। হেলতে থাকে।

এর জন্য মহান আল্লাহ পাহাড় সৃষ্টি করেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘তিনি পৃথিবীতে সুদৃঢ় পর্বত স্থাপন করেছেন, যাতে পৃথিবী তোমাদের নিয়ে আন্দোলিত না হয় (হেলে না যায়)।’ (সুরা : নাহল, আয়াত : ১৫)

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.