‘জিও ট্যাগিং’ প্রযুক্তি নির্ভর ‘স্বচ্ছ অ্যাপ’ চালু রাজ্যে: পরিচ্ছন্নতায় নজরদারি এবার আরও কড়া

Please Share With Your Friends

রাজ্যের শহর ও গ্রামীণ এলাকাগুলিকে আবর্জনামুক্ত এবং আরও নির্মল করে তুলতে এক বড়সড় প্রযুক্তিগত পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। এবার থেকে কঠিন ও তরল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং সার্বিক পরিচ্ছন্নতার ওপর কড়া নজরদারি চালাতে চালু করা হলো বিশেষ মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন— ‘স্বচ্ছ অ্যাপ’ (Swachh App)। এই অ্যাপের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর উন্নত ‘জিও-ট্যাগিং’ (Geo-tagging) প্রযুক্তি।

নবান্ন সূত্রে জানা গেছে, পরিচ্ছন্নতা অভিযানের কাজে গতি আনা এবং সরকারি নজরদারি ব্যবস্থাকে নিশ্ছিদ্র করতেই এই অ্যাপটি তৈরি করা হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে রাজ্যের বেশ কিছু পুরসভা ও পঞ্চায়েত এলাকায় পরীক্ষামূলকভাবে এই অ্যাপের ব্যবহার শুরু হয়েছে। খুব শীঘ্রই রাজ্যজুড়ে এটি বাধ্যতামূলক করা হবে।

কী এই জিও-ট্যাগিং প্রযুক্তি এবং কীভাবে কাজ করবে এই অ্যাপ?

ইনলাইন সংজ্ঞা: জিও-ট্যাগিং (Geo-tagging) হলো এমন একটি প্রযুক্তি যার মাধ্যমে কোনো ছবি বা তথ্যের সাথে ভৌগোলিক অবস্থান বা নির্দিষ্ট অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশ (Latitude & Longitude) যুক্ত করে দেওয়া হয়।

এই অ্যাপের কাজের পদ্ধতি মূলত দুটি স্তরে ভাগ করা হয়েছে:

  • গ্রাউন্ড স্টাফ বা সাফাই কর্মীদের ভূমিকা: সাফাই কর্মী বা দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিদর্শকরা যখন কোনো নির্দিষ্ট এলাকার আবর্জনা পরিষ্কার করবেন, তখন তাদের কাজের আগের (Before) এবং পরিষ্কার করার পরের (After) ছবি এই অ্যাপে আপলোড করতে হবে।
  • স্বয়ংক্রিয় ট্র্যাকিং: জিও-ট্যাগিং প্রযুক্তির কারণে কর্মীরা ঠিক কোন জায়গায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন, তা জিপিএস (GPS)-এর মাধ্যমে সরাসরি কন্ট্রোল রুমে ধরা পড়বে। ফলে ঘরে বসে বা অন্য কোথাও থেকে ভুয়ো বা পুরনো ছবি আপলোড করার কোনো সুযোগ থাকবে না।

কেন এই অ্যাপের প্রয়োজন পড়ল?

প্রশাসন সূত্রে খবর, এতদিন ধরে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার জন্য বহু খতিয়ান বা রিপোর্ট কাগজে-কলমে জমা পড়ত। অনেক সময় নির্দিষ্ট জায়গায় সাফাই কাজ না করেই “কাজ সম্পন্ন হয়েছে” বলে দাবি করার অভিযোগ উঠত। এই অ্যাপ চালু হওয়ায়: ১. কাজে ১০০% স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা যাবে। ২. ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সরাসরি পোর্টালের ড্যাশবোর্ডে দেখতে পাবেন রাজ্যের কোন প্রান্তে কতটা কাজ হলো। ৩. বর্জ্য অবিন্যস্তভাবে পড়ে থাকলে তা দ্রুত চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।

See also  কার বেসিক বেতন ২ লাখ পেরোবে? সপ্তম পে কমিশনের সম্ভাব্য পে-ম্যাট্রিক্স ও ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরের হিসেব

সাধারণ মানুষের সুবিধাও থাকছে

রিপোর্ট অনুযায়ী, আগামী দিনে এই অ্যাপের একটি নাগরিক সংস্করণও (Citizen Version) আনা হতে পারে। যেখানে সাধারণ মানুষ নিজেদের এলাকায় কোনো আবর্জনার স্তূপ বা নর্দমা বুজে থাকার ছবি তুলে সরাসরি অভিযোগ জানাতে পারবেন। জিও-ট্যাগিং থাকার কারণে পুরসভা বা পঞ্চায়েত কর্মীরা সহজেই সেই নির্দিষ্ট লোকেশনে পৌঁছে সমস্যার সমাধান করতে পারবেন।

রাজ্য নগরোন্নয়ন দপ্তরের এক আধিকারিক জানান, “মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে রাজ্যকে নির্মল ও পরিবেশবান্ধব করে তুলতে আমরা বদ্ধপরিকর। এই ‘স্বচ্ছ অ্যাপ’ আমাদের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার নজরদারিকে এক নতুন স্তরে নিয়ে যাবে। প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারে ফাঁকি দেওয়ার কোনো জায়গা থাকবে না।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়ার মতো মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে এবং পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণে এই ডিজিটাল নজরদারি ব্যবস্থা অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে।

Author


Please Share With Your Friends